হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলায় হাম (মিজলস) সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০৬ জনে।
তবে স্বস্তির খবর হলো, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে ২১ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বোয়ালমারীতে, যেখানে নতুন আক্রান্ত ২৮ জন। এছাড়া আলফাডাঙ্গায় ২৫ জন, সালথায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৯৯ জন রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও ১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, "হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।"