ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, তদারকির ঘাটতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে নিম্নমানের ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রুরাল অ্যান্ড আরবান অ্যান্ড টাউনশিপ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (RUITIP)-এর আওতায় কালীগঞ্জ পৌরসভার গান্না রোডের পাওয়ারহাউজ থেকে শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রায় ২০ দশমিক ১০ শতাংশ কম দরে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স তাজুল ইসলাম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই প্রকল্পে নানা অনিয়ম চলছে। নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে পৌরসভার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পৌরসভার নিজস্ব রোলার ব্যবহার করার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ইট ফেলে দ্রুত ভেঙে রোলিং করা হচ্ছে। রাস্তার সাব-বেজে অতিরিক্ত ধুলাবালি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজটি আমি করছি না। আমার লাইসেন্সে অন্য একজন কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।
এদিকে প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি শোয়েব আহম্মেদ একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেও কাজের মান নিয়ে কোনো আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার কার্যসহকারী ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জহরুল ইসলাম এই প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকলেও তাদের নির্মাণস্থলে খুব কমই দেখা যায়। বরং তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম আড়াল করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারেই কাজ চলছে।
অন্যদিকে অভিযোগের পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করেন কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি বলেন, সরেজমিনে গিয়ে কিছু নিম্নমানের ইট পেয়েছি। সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) গোলাম ইয়াজদানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।