সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, রাত ১টার দিকে একটি গাড়ির শব্দ শুনে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। একই সময়ে আশপাশের আরও কয়েকজনও বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে পাশের একটি কবরস্থানের কাছে থামে।
রেজাউল করিমের ভাষ্য, কিছুক্ষণ পর সিভিল পোশাকে থাকা ছয় ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে বাইরে থাকার কারণ, পেশা ও পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান।
তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাদের জিজ্ঞেস করেন—এত রাতে রাস্তায় ঘুরছেন কেন? এরপর বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরে ওই ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বাড়ির তিনটি মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। এতে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'