শিরোনাম
◈ হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলায় আহত সারজিস-পাটওয়ারী, জানালেন আসিফ মাহমুদ (ভিডিও) ◈ পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঁড়িয়ে প্রতারণা বেড়েছে, সতর্ক করল পুলিশ ◈ এক বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা ◈ দেশে বিক্রি হওয়া যে ৮ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি ◈ ওয়ান‌ডে দ‌লের অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন মিরাজ, দা‌য়িত্ব পে‌তে পা‌রেন লিটন দাস! ◈ ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে উজবেকিস্তানকে হা‌রি‌য়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ◈ বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার জন্য অযোগ্য ইনফান্তিনো: প‌রিচালক, মান‌বা‌ধিকার সংস্খ ◈ ‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’ ◈ রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল ◈ তারেক-ইব্রাহিম ফোনালাপ: পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল
আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মামলার দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় অঝোরে কাঁদেন শহীদ মাহবুবের মা

তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এবং চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ায় পরিবারটির ক্ষোভ ও হতাশা কাটেনি।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় নিহত হন মাহবুব আলম।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল শেরপুরের খরমপুর এলাকা। সেদিন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী দ্রুতগতির গাড়ি পিষে দিয়ে যায় শিক্ষার্থী মাহবুব আলমকে।

ঘটনাস্থলেই নিভে যায় একটি তাজা প্রাণ। ​নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিচার মেলেনি মাহবুবের পরিবারের। অভিযোগ উঠেছে, আইনি গ্যাঁড়াকল আর ‘দায়সারা’ চার্জশিটের বেড়াজালে আটকে আছে শহীদ মাহবুবের রক্তের ঋণ।

​ধুলো জমেছে বইয়ে, চোখে জমেছে জল ​হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও শেরপুরের পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা গ্রামের শহীদ মাহবুবের বাড়িতে থামেনি শোকের মাতম। ঘরের এক কোণে মাহবুবের পড়ার টেবিল ও বইপত্রগুলো আজ ধুলোবালি মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা মোছা. মাফুজা খাতুন এখনো ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদে চলেন।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাফুজা খাতুন বলেন, সেদিন আমার ছেলে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় আইটি সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।

সেখানে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মিছিলে সামিল হয় সে। মিছিল চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই ও মারা যায়। আমি বাড়ি থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ট্রলিতে পড়ে আছে আমার বাবার লাশ। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি চাই।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন চার্জশিট ও নানা আইনি জটিলতার কারণে অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। স্বজনদের আকুল দাবি—অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

​মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম জানান, মাহবুব আলম হত্যা মামলায় মোট ১৫০ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চলছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত করে দেখছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়