শিরোনাম
◈ এমপি নজরুলকে ঘিরে চাঞ্চল্য, ড্রাইভারের বয়ানে উঠে এলো নানা অভিযোগ ◈ ভূমি কর্মকর্তা ঘুষ নেওয়ার সময় বললেন—কপাল ভালো ৪০তম বিসিএসে উনি ক্যাডার, আমি নন-ক্যাডার (ভিডিও) ◈ ইরান যুদ্ধে ‘আটকে’ ট্রাম্প, তিন বিকল্পেই সংকট: নিউইয়র্ক টাইমস ◈ পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট ◈ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতালে, নিহত ১ ◈ ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে টাস্কফোর্স ঘোষণা মোদির ◈ বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ ‘বদির সুপরিকল্পিত ছকেই একরাম হত্যা’: চিফ প্রসিকিউটর ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ তারেক রহমানের ◈ রেমিট্যান্সে চাঙা অর্থনীতি, ২৫ দিনে এলো প্রায় ২৩০ কোটি ডলার

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত
আপডেট : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাত মাসে শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জন, ভর্তি ১ হাজার ১ জন

বন্যার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বৃদ্ধি

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : চলতি মাসের শুরুতে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয় কক্সবাজার। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা পানির কারণে এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নন, বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফিল্ড হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প মিলিয়ে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা যৌথভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যার আগেই জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। বন্যার পর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলার মহেশখালী, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১ হাজার ৩২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রোগী ৬২৩ জন, এবং তাদের সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

তিনি বলেন, “বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারাও ডেঙ্গুর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, “আমার ছয় বছরের মেয়ে রাজিয়ার কয়েকদিন জ্বর ছিল। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করেছিলাম। পরে ফিল্ড হাসপাতালে পরীক্ষা করে জানতে পারি তার ডেঙ্গু হয়েছে। আমাদের ব্লকেও আরও কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।”

২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাফেজ সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে ও মেয়ে দুজনই একসঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ ধরা পড়ে। একজন কিছুটা সুস্থ হলেও অন্যজন এখনও চিকিৎসাধীন।”

মহেশখালী পৌরসভার পুটিবিলা এলাকার বাসিন্দা পারভেজ বলেন, “শিশু সন্তানের জ্বর কমছিল না। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছি সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।”

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা মোহাম্মদ রিজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গু যাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফিল্ড হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ক্যাম্পে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কাজ চলছে।”

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৬২৩ জন রোহিঙ্গা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সবার ডেঙ্গু পরীক্ষায় সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, “বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও যাতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পর জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ে। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষেরও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার এবং জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গু থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে বর্ষা মৌসুমজুড়ে সবাইকে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়