শিরোনাম
◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়? ◈ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস, ওঠা যাবে যেসব স্টেশন থেকে ◈ ওয়ান‌ডে সি‌রি‌জে অ‌স্ট্রেলিয়ার কা‌ছে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল  ◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৮ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তিন যুগের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ কৃষকের ৪১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ কৃষকের ৪১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ। দশকের পর দশক কয়েক হাজার টাকার ঋণের দায় মাথায় নিয়ে জীবনযাপন করা হাজারো কৃষক পরিবারের জন্য এ উদ্যোগ নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

তাদের প্রত্যাশা, ঋণমুক্তির পাশাপাশি সহজ শর্তে নতুন কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও উৎপাদন সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে সুদ-আসলে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকায়। ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার টাকা পরিশোধের পরও তার নামে বকেয়া ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে ৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্তমানে ১২ হাজার ১৭১ টাকা এবং তালিমপুর গ্রামের মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্তমানে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা দেনার দায়ে ছিলেন। প্রায় তিন যুগ ধরে ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ানো এসব কৃষক অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন সেই দায় থেকে।

শুধু ছলেমান, সামছুর রহমান বা মোমিন উদ্দীন নন; কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার মোট ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষক। কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব কৃষকের মোট ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণ থেকে মুক্তির খবরে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

কৃষি ব্যাংক সূত্র জানায়, নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত যেসব কৃষকের কৃষিঋণের স্থিতি ১০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তারাই এ সুবিধার আওতায় এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

Advertisement

খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের খুলনা জোনাল অফিসের আওতাধীন বাগেরহাট,খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষকের ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ২৬ হাজার ৫০০ জন কৃষকের ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।

তিনি বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী কৃষকদের তালিকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তাদের ঋণমুক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হবে।”

খুলনা জেলা কৃষি ব্যাংক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ডুমুরিয়া উপজেলার ২ হাজার ৭১১ জন কৃষক। এ উপজেলায় মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ এক কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া কয়রায় এক হাজার ৪৪৮ জন কৃষকের এক কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

তবে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণধারীরা এ সুবিধার আওতায় আসছেন না। অন্যদিকে নির্বাচনের পর খুলনা জোনের আওতাধীন পাঁচ জেলায় নতুন করে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক ঋণ নিয়েছেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঋণ মওকুফের বিষয়টি ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় যেসব কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, সেসব মামলাও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দীর্ঘদিনের অচল ঋণ মওকুফ তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি, সঠিক তদারকি এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আবারও খেলাপি ঋণের চাপ তৈরি হতে পারে।

খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনে সুদ-আসলে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকায়। ব্যাংকের চাপের মুখে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও তার নামে বকেয়া ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে নেওয়া ৭ হাজার টাকার ঋণের বিপরীতে বর্তমানে ১২ হাজার ১৭১ টাকা এবং তালিমপুর গ্রামের মোমিন উদ্দীনের ১৯৮৯ সালে নেওয়া ৬ হাজার টাকার ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ হাজার ৭৭৪ টাকায়। প্রায় তিন যুগ ধরে বইতে থাকা এই ঋণের বোঝা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তারা।

শুধু এই তিন কৃষকই নন, কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মোট ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষক। কৃষি ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এসব কৃষকের মোট ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার খবরে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

কৃষি ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত যেসব কৃষকের কৃষিঋণের স্থিতি ১০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তারাই এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ ঋণ মওকুফ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের খুলনা জোনাল অফিসের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষকের ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ২৬ হাজার ৫০০ জন কৃষকের ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।

তিনি বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে তাদের ঋণমুক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হবে।”

খুলনা জেলা কৃষি ব্যাংক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ডুমুরিয়া উপজেলার ২ হাজার ৭১১ জন কৃষক। এ উপজেলায় মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ এক কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া কয়রায় এক হাজার ৪৪৮ জন কৃষকের এক কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

তবে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণধারীরা এই সুবিধার আওতায় আসছেন না। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর খুলনা জোনের পাঁচ জেলায় নতুন করে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক ঋণ নিয়েছেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঋণ মওকুফের বিষয়টি ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধ না করায় যেসব কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, সেসব মামলাও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের পুরোনো ও অচল ঋণ মওকুফ তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ, আদায় ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি খাতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিনের ঋণের দায়মুক্তির এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে সেইসব কৃষক পরিবারের মধ্যে, যারা কয়েক হাজার টাকার ঋণের বোঝা বয়ে দশকের পর দশক পার করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঋণমুক্তির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে নতুন ঋণ ও সরকারি সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।

  • সর্বশেষ