হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং এক সরকারি কর্মকর্তার বাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার ইট জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী কর্মকর্তা।
বুধবার (১৫ জুলাই) ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এসব অভিযোগ করেন মো. হায়দার হোসেন। আবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও পাঠানো হয়েছে।
মো. হায়দার হোসেন বর্তমানে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর অধীনে সাতক্ষীরা জেলার তালা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অডিও ভিজ্যুয়াল কর্মকর্তা (এভিও) হিসেবে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া গ্রামে।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরির কারণে কর্মস্থল সাতক্ষীরায় হলেও গত প্রায় এক বছর ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে দেখা-সাক্ষাৎ করাও তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
হায়দার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ জুন ২০২৬ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের নেতৃত্বে স্থানীয় সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ৮ হাজার ইট নিয়ে যান।অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে তিনি ঘটনার আলামত হিসেবে কয়েকটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আব্দুল মান্নান মাতুব্বর পূর্বে পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তার ছোট ভাই মো. সিদ্দিক মাতুব্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি এই কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভয়ভীতি, হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নিজের বাড়িতে যেতে না পারা এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর। তিনি বলেন, "এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি ইট লুট করেছি—এটি প্রমাণ করতে পারলে ইটের ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দেব। বরং আমি তাদের কাছেই টাকা পাব। চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। এছাড়া আমি কখনোই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম না। সরকারি ওই কর্মকর্তাকে বাড়িতে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রকিবুল হাসান বলেন, "ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা থাকায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ইউনিয়নের ১ নম্বর প্যানেল সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"