শিরোনাম
◈ আইনি জটিলতায় এমবাপ্পে, হতে পারে তিন বছরের কারাদণ্ড ◈ ছয় মাসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা: দায়িত্ব কমতে পারে কয়েকজন মন্ত্রীর, নতুন মুখ আসতে পারেন মন্ত্রিসভায় ◈ বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস ◈ রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর, নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু ◈ বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা, প্রয়োজনে ছুটি বাতিল ◈ বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিত পরিকল্পনা, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন ◈ মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতু ২৪ ঘণ্টায় সচল করল ইরান ◈ সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর, রেশন সুবিধার আওতায় আসছেন যাঁরা ◈ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ◈ স্বাস্থ্যখাতে বড় নিয়োগের ঘোষণা, দেশেই উন্নত চিকিৎসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২০ রাত
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত : সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাথে টেকনাফের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অব্যাহত ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তিন উপজেলার দেড় লক্ষ মানুষ এখনো পানিবন্দী। সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের সাথে টেকনাফের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 
বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায়, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেওয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত রয়েছে। অব্যাহত রয়েছে বর্ষণ।

বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মাতামুহুরি ও বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া রামু ও মাতামুহুরি উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেংগে গিয়ে মাতামুহুরি নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এই ৪উপজেলার ১০০ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। কক্সবাজারের চকোরিয়ার কাকার এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল আলম বলেন, গত তিনদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে ঘরের অর্ধেকের চেয়ে বেশি অংশ। রান্নাবান্না বন্ধ। আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দুইদিন খাবার এনেছে।

সুরাজপুর মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা তহিদুল আনোয়ার বলেন, বাড়িতেই আটকা পরে আছি দুই দিন। কিছু শুকনো খাবার ছিল তা দিয়ে বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়া চলছে। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না খাওয়ার জন্য। সব টিউবওয়েল গুলো ডুবে আছে।

পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষারচর ফাশিয়াখালী ইউনিয়ন  মাতামুহুরি উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা, বিএমচর ইউনিয়ন পেকুয়া উপজেলার সদর, পৌরসভা মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পেকুয়ার মেহেরনামা এলাকায় মাতামুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেংগে যায়। এতে নদীর পানি ঢুকে আশেপাশের গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, রাজারকুল ইউনিয়ন বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ী ঢলে জলাবদ্ধতা তৈরী হওয়ায় জেলার অন্তত দেড় লক্ষাধিক মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অবস্থা এখনো ভয়াবহ। বিগত পাঁচ দিন ধরে এই তিন উপজেলার ৩০ টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আছে। সাগরে জোয়ারের প্রভাব থাকায় বন্যার পানি নামছে খুবই ধীরে। এসব এলাকার বাসিন্দারা খুবই দুর্ভোগের মধ্যে জীবন যাপন করছে।  

মাতামুহুরি নদীর কয়েকটি পয়েন্টে বড় ধরনের ভাংগনের সৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয় এসব এলাকা। মাতামুহুরি ও বাকখালী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়ায় নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেন্টমার্টিনে খাদ্য ও নিত্য পণ্য সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের সাথে টেকনাফের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

সেন্টমার্টিন্সে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন সপ্তাহব্যাপী চলমান প্রবল বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে সমস্যায় পড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, এখন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। ৬৪০টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন। সরকারি ভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা।

এদিকে টানা বর্ষনের কারণে বেড়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কা। আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারী করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের শ্রেষ্ঠ লোগো চাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক ও সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তবে রবিবার থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে কিন্তু এক কিশোরী সহ ৪ শিশু।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়