এম এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় নোনা খাড়ি পুন:খনন প্রকল্পের কারণে ফসলের মাঠে পানির নিশ্চয়তা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। ফলে অবহেলিত এই জনপদে বইছে স্বস্তির বাতাস। সেই সাথে স্থানীয় কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আশায় উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক এবং এলাকাবাসী।
এদিকে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ উপহার দিতে নিয়মিত তদারকি করে চলছেন স্থানীয় প্রশাসন।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়নের পাকুড়া স্থলবন্দর হতে উত্তরে বোচাগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নোনা খাড়িটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মরা খালে পরিনত হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় এই খাল পুন:খননের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক গত ৩ মে এই খাল পুন:খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ২৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৬৬ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে খাল খননসহ, পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে ড্রেইন ও কালভার্ট। খালের স্থায়িত্ব বাড়াতে পাড়ে লাগানো হচ্ছে ঘাসের চারা ও গাছ।
কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্থানীয় উচ্ছ্বসিত কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে জানান, এবার শুষ্ক মৌসুমে এই খাল থেকে সেচের পানি পাব আর বর্ষায় দূর হবে জলাবদ্ধতা। এই খাল খনন হওয়াতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে। আগে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাইতাম না, আবাদ করতে খুব কষ্ট হইতো। এখন ড্রেন আর কালভার্ট হওয়ায় যাতায়াত এবং চাষাবাদ দুইটাই সহজ হবে।
এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল ইসলাম জানান, আমরা নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ উপহার দিতে নিয়মিত তদারকি করছি। তবে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করছি স্থানীয় মানুষ এর শতভাগ সুফল পাবেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ কর্মসূচীর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান। এই প্রকল্পে খাল খনন, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণসহ পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এই ধরনের প্রকল্প টেকসই ভূমিকা রাখবে।