ইফতেখার আলম বিশাল : রাজশাহীর মেহেরচণ্ডী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে পিতা রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনায় ছেলে মো: রাকিব উর রহমান (২২) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫।
দায়ের হওয়া আলোচিত মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছিল রাকিব। র্যাব-৪ ও র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানে রোববার (২৮ জুন) ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিন মধ্য রাতে ঢাকার মিরপুর-১ থানাধীন মধ্য পাইকপাড়ার গ্রীণভিউ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, নিহত রেজাউল করিম (৬০) রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী দক্ষিণপাড়া এলাকায় স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২২ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছেলে রাকিব চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চান। এ সময় রেজাউল করিম তাকে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতে বললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল করিম তার স্ত্রীকে মারধর করতে থাকলে পাশে থাকা ছেলে রাকিব বাড়ির উঠানে থাকা একটি মুণ্ডুর (কৃষিকাজে ব্যবহৃত ভারী হাতিয়ার) দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত রেজাউল করিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. আঞ্জুরা বেগম বাদী হয়ে ২৩ জুন চন্দ্রিমা থানায় ছেলে রাকিবকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫, সদর কোম্পানি (রাজশাহী) এবং র্যাব-৪, সিপিএসসি মিরপুর-১ এর যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত রাকিব ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।