দেশের আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট আম বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি (হিমসাগর), লক্ষ্মণভোগ, গুটি, রানীপছন্দ ও আগাম জাতের আম বাজারে উঠতে শুরু করায় সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আমের বাজার।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। তবে বাজারে আমের সরবরাহ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাষিরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে কানসাট আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাগান মালিক ও চাষিরা পিকআপ, ভ্যান ও ছোট ট্রাকে করে আম নিয়ে আসছেন বাজারে। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা বাজারে ভিড় করছেন। দরদাম শেষে ট্রাকভর্তি করে আম কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন আমচাষি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাজারে দাম নেই।’
স্থানীয় আমচাষি রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এছাড়া আম পাড়া, পরিবহন ও বাজারজাতকরণেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে খরচ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে দাম নেই। তাই লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাইকারদের এক ধরনের সিন্ডিকেট প্রভাব দেখা যায়। এতে অনেক সময় চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করেন। আবার বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকলে দাম আরও কমে যায়। ফলে কয়েক মাসের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন তারা।
অন্যদিকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পুরোপুরি আমের চাহিদা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে চাহিদা বাড়লে আমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইয়াসিন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমের দাম এখন প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকের লোকসান হবে না। তবে দামটা আরও একটু বেশি হলে ভালো হতো।’
চলছি মোসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এতে চার লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।