শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি,  ক্রো‌য়ে‌শিয়া‌কে ২-০ গো‌লে হারা‌লো বেলজিয়াম, অপর ম‌্যা‌চে মর‌ক্কোর সহজ জয়  ◈ মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজারে ডগ স্কোয়াড নামানোর পরিকল্পনা পুলিশের ◈ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আইপিএল নিয়ন্ত্রণে বেশি ক্ষমতা দিয়ে ফেলেছিলাম: ললিত মোদি ◈ বিশ্বকা‌পে ইরানের ম্যাচে বাড়তি নিরাপত্তা দি‌বে যুক্তরাস্ট্র ◈ কোন সংকটের আভাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী? ◈ দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারীদের জন্য যে নতুন নিয়ম জারি করল ভারত সরকার ◈ এখন থেকে ৫০ ভাগ মামলা গাড়ির মালিককে না দিয়ে চালকের বিরুদ্ধে করা হবে: অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) ◈ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ◈ ‘কাকে দিয়ে হাদিকে খুন করিয়েছেন সব জানি, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে’

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ১০:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজারে ডগ স্কোয়াড নামানোর পরিকল্পনা পুলিশের

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশের সবচেয়ে বড় রুট কক্সবাজার। সেখান থেকে ছোট্ট এই ট্যাবলেট দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারে মাদক ঠেকাতে এবার প্রশিক্ষিত কুকুর নামাতে চায় পুলিশ। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কক্সবাজার পুলিশের কাছ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনসহ কিছু ইউনিটে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড (কে–৯) আছে। এসব ইউনিটে যেসব কুকুর মাদক শনাক্তে পারদর্শী তা বাছাই করে কক্সবাজারের জন্য একটি কে–৯ স্কোয়াড গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। নতুনভাবে কুকুর না কিনে, যেগুলো এরই মধ্যে মাদক উদ্ধারে পরীক্ষিত তাদের কক্সবাজারে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন ও মেরিন ড্রাইভে এসব তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজারে প্রশিক্ষিত কুকুর কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটি নিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। মাদকদ্রব্য যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেটি নিশ্চিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। 

সূত্র বলছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কের পাশে যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে তা কুকুরের মাধ্যমে তল্লাশি করতে চায় আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী। এর জন্য বাস–বে তৈরি করা হবে। যেখানে বাসগুলো মূল রাস্তার যানজট না বাড়িয়ে নিরাপদে রাখা যাবে। কক্সবাজার থেকে বের হওয়ার পথে সন্দেহভাজন সব ধরনের যানবাহন তল্লাশি করার কথা ভাবা হচ্ছে।
 
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রশাসনের সমন্বয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এটি গঠন করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৩ মে টাস্কফোর্সের বৈঠক হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু প্রস্তাব উঠে আসে। কিভাবে কক্সবাজার কেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের তথ্যে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে দ্রুত আদান–প্রদান ও অভিযান জোরদার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। মাদক কারবারিদের ওপর প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 
 
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শীর্ষ কারবারি হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের গ্রেপ্তারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় প্রায় তিনশ’ জনের নাম এসেছে। এছাড়া বড় কারবারিদের অর্থ–সম্পদের খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা হবে। 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কের পাশে বাস থামানোর জন্য পৃথক জায়গা করে কিভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি যায় সেই পরিকল্পনা আমরা করছি। 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করার কাজ নতুনভাবে শুরু হয়েছে। এতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আসবে না।  

আরেক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেশ কয়েক ধরনের ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে। এগুলো, ডায়মন্ড, বড় দানা, ছোট দানা, বাবা, চিতাসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। ইয়াবা ছাড়াও হেরোইন, আইসসহ (ক্রিস্টাল মেথ) বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য বাংলাদেশে আসে। এসব কারবারের সঙ্গে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ সরাসরি জড়িয়েছে। বাংলাদেশি মাদক কারবারিদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা মিলে এই চক্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। অধিকাংশ সময় বাহকরা ধরা পড়লেও নেপথ্যে যারা থাকেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই কারবারের সঙ্গে মিয়ানমারকেন্দ্রিক সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির সদস্যরা জড়িত। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অবৈধভাবে বিভিন্ন খাবার সামগ্রী ছাড়াও সিমেন্ট যাচ্ছে। অনেক সময় খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে ইয়াবা পাঠানো হয়। এছাড়া হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইয়াবার অর্থ পরিশোধ করা হয়ে থাকে। এছাড়া মাদক কারবারে জড়িত হয়েও বছরের পর বছর কারবারির তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন এমন ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়ার ওপর সব সংস্থা জোর দিচ্ছে।  

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবার মতো মাদক ভেহিক্যাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা কঠিন। মাদক শনাক্তের জন্য প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তা নেওয়া অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। অপরাধ দমন, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে বিশ্বজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে কে–৯ স্কোয়াড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কে-৯ স্কোয়াডের কুকুরগুলোর ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর হয়। এরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে লুকানো হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো অবৈধ মাদকদ্রব্য নিমিষেই শনাক্ত করতে পারে। 

বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‍্যাব কক্সবাজারে কুকুরের মাধ্যমে মাদক শনাক্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে মাদক উদ্ধারজনিত মামলার সংখ্যা বাড়ছে। মাদক অভিযানের ঘটনায় এপ্রিল মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৭০৬টি মামলা হয়েছে। মার্চে  ৫ হাজার ৬২ ও ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ৩৫৯টি।   

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য কে–৯ স্কোয়াডের লিখিত প্রস্তাব আছে। 

এর আগে মাদক পাচার ও অবৈধ পণ্য পরিবহন রোধে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়েছে। এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে ইয়াবা বড়ি, ক্রিস্টাল মেথসহ ভয়ংকর মাদক পাচার রোধে স্ক্যানিং মেশিন বসানোর জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিল। 

সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়