সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে মোবাইল মেরামত বাবদ ‘মাত্র ৮০০ টাকার পাওনার’ বিরোধের জেরে দেনাদারের ছুরিকাঘাত নিহত হয়েছে পাওনাদার মেকানিক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ লরাবাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত আব্দুল হামিদ (২০) একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি পেশায় মোবাইল মেকানিক এবং স্থানীয় এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিল।
আটক মোহাম্মদ শামীম (২১) নিহতের প্রতিবেশী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে।
নিহতের চাচাত ভাই মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, গত মাসখানেক আগে আব্দুল হামিদের দোকানে একটি মোবাইল মেরামত করেন মোহাম্মদ শামীম। প্রতিবেশী হওয়ায় দুইজন পূর্ব পরিচিত ছিল। কাজ শেষে শামীমের পকেটে টাকা না থাকায় পরে শোধ করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে আসেন। কিন্তু মাস পার হলেও মোবাইল মেরামতের ৮০০ টাকা পরিশোধ না করায় শামীমকে কয়েকবার তাগাদা দেন আব্দুল হামিদ। এনিয়ে দোকান মালিক কাজের বকেয়া টাকার আদায়ের জন্য হামিদকে চাপ সৃষ্টি করেন।
“ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আব্দুল হামিদ পাওনা টাকা চাইতে শামীমের বাড়ীতে যান। এতে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এক পর্যায়ে শামীমের এক বোন আব্দুল হামিদ চড় মারেন। পরে হামিদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করে। এক পর্যায়ে শামীম এসে পিছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করলে হামিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। “
তিনি বলেন, “ খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ শামীম পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে আব্দুল হামিদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঈদগাঁওয়ের স্থানীয় এক ক্লিনিকে আনা হয়। এসময় তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়া কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আনার পথে খুরুশকুল এলাকায় পৌঁছলে হামিদের মৃত্যু ঘটে। “
এব্যাপারে ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মজুমদার বলেন, ঘটনার খবর শুনে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি মোবাইল মেরামত বাবদ পাওনা টাকার বিরোধে ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিফাতুল মজুমদার জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।