শাহীন খন্দকার: উন্নয়ণের মহাসড়কে এখন নেত্রকোণা জেলার সুসং দূর্গাপুর উপজেলা। বৃটিশ ভারত-মহাদেশ-শাসনামলে ১১০ বছরের পূর্বের কাংখিত রেললাইন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের হাত ধরে জানিয়েছেন, দূর্গাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু।
মেয়র পিন্টু বলেন, দূর্গাপুর যাতায়াতের জন্য সংযোগ হতে চলেছে রেলপথ। তিনি বলেন, তৃণমুলের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষেরা নতুন করে জীবন-জীবিকার পথ দেখছে এই রেললাইনকে ঘিরে। কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের দ্রুত বাজারজাতের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলেন, রেললাইন দুর্গাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে, এই জনপদেও ছোট ছোট পাহাড় টিলার সাদামাটির খণিজসম্পদ, সোমেশ্বরীর নদী কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন হবে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে যা এলাকার স্থানীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, কৃষি ভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং স্থানীয় আদিবাসীদের হস্তশিল্পের খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। এলাকার উৎপাদিত পণ্য কম খরচে পৌছে যাবে বিভাগীয় শহর থেকে ও জেলা শহরসহ আর্ন্তজাতিকভাবে।
বিএনপি নেতা রওশন আলী বলেন, দূর্গাপুর কলমাকান্দার ভূমিপুত্র ডিপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল নির্বাচন পূর্ব জনসাধারণকে যতোগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন, তারমধ্যে এই রেললাইন একটি। চলতি মাসের ১৩ মে দিনটি দূর্গাপুর কলমাকান্দার মানুষের কাছে স্মরণীয় একটি দিন। বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, ১৯১২-১৮ সাল তৎকালীন সরকার এই অঞ্চলের কোহিনূর কোম্পানীর সাদা মাটির কোম্পানীসহ অত্রঞ্চলের বানিজ্যিক শিল্প প্রসারিত করার লক্ষ্যে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দূর্গাপুর রেললাইন সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। সেই সঙ্গে রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য আবাসন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করেন।
রেললাইন সম্প্রসারনের লক্ষে শুরু করে রাস্তা নির্মানের কাজ। কিন্তু পরবর্তিতে জারিয়া আনসার ক্যাম্পের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া রেললাইনটি জারিয়া ষ্টেশনে পৌঁছার আগেই ৯০ডিগ্রি এংগেলে যে বাঁক রয়েছে, ওই বাঁক থেকে সোজা কংশ নদী পার হয়ে দুর্গাপুরের দিকে রেল নেয়ার জন্য মাটিকাটাও শুরু হয়েছিলো। জনশ্রুতি রয়েছে কালেরস্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে জারিয়ার নাটোরকোনা এলাকাটি। দৈনিক যুগান্তরের দূর্গাপুরের সাংবাদিক তোবারক হোসেন খোকন জানিয়েছেন, ১৯৪০ দশকে এই অঞ্চলে কৃষক বিদ্রোহ আনন্দোলন “ টঙ্কো আনন্দোলন” হয় জমিদারের বিরুদ্ধে জান দেবো তবু জমির ফসল দেবোনা এই এজেন্ডাকে সামনে রেখে।
১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান দেশ বিভাগ ১৯৬৫ সালে কাশ্মিওে পাকিস্তানের অনুপ্রবেশ যুদ্ধ, ১৯৫২ সালের ভাষা আনন্দোলনসহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মার উদ্যোগটি থমকে দাড়িয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে (ইজ) পক্ষ থেকেও নেয়া হয়নি জোরালো কোন উদ্দ্যোগ। যে কারনে, স্বপ্নের রেল আর দুর্গাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়নি।
ডিপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল দূর্গাপুরের মানুষের কাছে এখন নতুন স্বপ্ন নতুন ভোরের স্বপ্ন বাস্তবায়ণে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণের অভিমত জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন শুধু একটি যোগাযোগ নতুন মাত্রাই না এটি পুরো নেত্রকোণা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, পর্যটন বিকাশ এবং শিল্পায়নের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালকে।
প্রবীণ ব্যাক্তিত্ব বীরেশ্বর চক্রবর্ত্তী শিক্ষক বলেন, আমার মৃত্যুর আগে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণ দেখে যেতে পারবো এটা কোনদিন কল্পনা করিনি। ডেপুটি স্পীকারের উদ্যোগে অবহেলিত জনপদের অর্থনৈতিক চাকা ঘুওে যাবে এজন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ সাদাত জানান, দুর্গাপুর সীমান্তবর্তী উপজেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ এঅঞ্চলের কৃষকসহ সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক দিক। রেললাইন চালু হলে দুর্গাপুর উপজেলা একটি নতুন অর্থনৈতিক জুন হিসেবে গড়ে উঠবে।