শিরোনাম
◈ ৯ বছরেও প্রত্যাবাসন হয়নি, রোহিঙ্গা সংকটে নতুন কৌশলের আহ্বান ◈ কোচিং সেন্টারে জড়াতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র জারি ◈ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ◈ সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা হলো ◈ ইরানের সব ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, দেশে প্রভাব পড়ার শঙ্কা কতটা? ◈ যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব ◈ এশিয়ার যে দেশ সন্তান জন্ম দিলেই ৬৭ লাখ টাকা দেবে! ◈ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন ◈ এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬, ১২:৪০ দুপুর
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৩ লাখ টাকার লোভে স্বামীকে হত্যা, নিখোঁজের এক মাস পর ঘরের মাটি খুঁড়ে মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ

আজিজুল হক, বেনাপোল: যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে স্ত্রী ও তার সহযোগীদের হাতে খুন হয়েছেন ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবক। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর শনিবার রাতে পুলিশ মাটি খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ইকরামুল উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইকরামুলের সঙ্গে তার মামাতো বোন মুন্নির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মুন্নি ইকরামুলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইকরামুল জমি বিক্রির ১৩ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে রাখেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মুন্নি তার আগের স্বামী, এক বান্ধবী ও অন্য সহযোগীদের নিয়ে ইকরামুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৮ এপ্রিল মুন্নি কৌশলে ইকরামুলকে তার আগের স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করার পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘরের ভেতর মাটি চাপা দিয়ে গোপন করা হয়।

ইকরামুল নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বসতপুর গ্রামে মুন্নির আগের স্বামী আলফারাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী মুন্নি, তার বান্ধবী কাকলি, কাকলির বাবা ফজু মোড়ল এবং মুন্নির আগের স্বামী আলফারাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টাকার লোভে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

বাঁগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • সর্বশেষ