শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর বিএনপি, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা-সততায় নজর ◈ ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে বদলে গেছে যে ৬ সমীকরণ ◈ পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা ◈ নেপালের আকস্মিক বন্যা: বাংলাদেশে কতটা ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ◈ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না গাজীপুরের যেসব এলাকায় ◈ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে ৪০০ জাহাজ-ছয় হাজার নাবিক ◈ মক্কা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত ◈ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে যে শর্ত মানতে হবে, জানালেন সোহেল তাজ ◈ ইমরান খা‌নের দুই ছে‌লের বিস্ফোরক মন্তব‌্য, বাবাকে স্পষ্ট হত্যা করার চেষ্টা চল‌ছে ◈ অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৬, ০৮:৫৫ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিশোরগঞ্জে রোদে ঝলমলে ফিরেছে প্রাণ, হাওরে বইছে বৈশাখী ব্যস্ততা

ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পর গত তিনদিন ধরে আকাশে ঝলমলে রোদ আর হালকা বাতাস থাকায় হাওরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণিদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। এখন মুখর হয়ে উঠেছে হাওরপাড়ের কৃষক। সড়ক, খলা ও বাড়ির উঠানে ভেজা ধান শুকানো, মাড়াই ও ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সব বয়সী মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওর  ইটনা, মিঠামইন, নিকলীর সড়ক জুড়ে একপাশে রোদে ধান নাড়ছেন কৃষাণিরা, কোথাও বাতাসে ধান উড়িয়ে চিটা আলাদা করছেন কৃষকরা। শুকানো ধান কেউ ট্রাক্টরে, কেউ ঠেলাগাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে হাওরের তীরবর্তী জমি থেকে কাটা ধান এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে এবং সেখানেই মেশিন দিয়ে মাড়াই চলছে। কয়েকদিন পর রোদের দেখা মেলায় হাওরে বৈশাখের এই কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুর্ভোগে পড়া কৃষকদের কাছে এই রোদ যেন স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। নিকলী এলাকার কৃষক কামরুল হাসান  বলেন- এক সপ্তাহ আগে যদি-এমন রোদ থাকতো, তাহলে জলাবদ্ধতার কারণে ধানের এত ক্ষতি ও কষ্ট হতো না। তবে গত তিনদিনের রোদে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। 

এভাবে কয়েকদিন রোদ থাকলে হাওরের ধান ও খড় সহজেই ঘরে তোলা যাবে। কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন- জেলার সবচেয়ে বড় নিকলীর হাওর এই হাওরের হাজার হাজার জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির পানির কারণে ধান কাটতে ভীষণ চাপে আছে কৃষক পাচ্ছে না শ্রমিক। 

নিকলীর লতিফা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রোদ থাকায় যতটুকু ধান কাটা হয়েছে তা নিয়ে হাওরে বৈশাখী আমেজ ফিরে এসেছে। আমরা এখন ধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান,  মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে জেলায় ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছেন আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তবে কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, বাস্তবে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির প্রকৃত পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হাওরে ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ৪০ ভাগ ধান নিয়ে এখন চরম শঙ্কায় দিন কাটছে হাওরবাসীর।

  • সর্বশেষ