শিরোনাম
◈ মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা ◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ◈ বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক ◈ হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২২ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাবনা চিনিকল উৎপাদন নেই, বেতন দিতেই মাসে খরচ ১২ লাখ টাকা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : দেশের অন্যতম বড় কাগজ কল নর্থবেঙ্গল পেপার মিলস স্থায়ীভাবে বন্ধের পর এবার প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়াতে অবস্থিত পাবনা চিনিকল।
লোকসানের অজুহাত ও পার্শ্ববর্তী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার প্রয়োজনে
২০২০ সালে মিলটির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে উৎপাদন না থাকলেও কর্মকর্তা-
কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা মেটাতে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ২৭ জন স্থায়ী এবং ৩০ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাঁদের বেতন দিতেই মাসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। এর মধ্যে মিলের যন্ত্রপাতি পাহারায় থাকা ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মীর মাসিক বেতনই ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ২০২০ সালে বন্ধ হওয়ার পর গত ছয় বছরে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ সরকারের ৮ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। একসময় এই মিলে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করলেও এখন কারখানা ও নিরাপত্তা বিভাগে হাতেগোনা কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জমির ওপর তৈরি এই চিনিকলটি একসময় শ্রমিক ও চাষিদের কোলাহলে মুখর থাকলেও এখন সেখানে জনশূন্য নীরবতা। অযত্ন আর অবহেলায় মিলের প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে মিল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আখচাষিরা। বন্ধ হওয়ার আগে এই অঞ্চলে প্রচুর আখ চাষ হতো, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। পাবনা চিনিকল ১৯৯৭-৯৮ মাড়াই মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। তবে শুরুর পর থেকেই মিলটি ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের আরও কয়েকটি চিনিকলের সঙ্গে এটির আখ মাড়াইও বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতারা জানান, পাবনা চিনিকলের ধারণক্ষমতা দেশের অন্যান্য মিলের চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং এখানকার চিনির মানও ছিল ভালো। দ্রুত মিলটি চালু করা হলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে কৃষকেরা বেশি লাভবান হতেন। এলাকাবাসীর দাবি, হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করতে বর্তমান সরকার যেন দ্রুত মিলটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চিনিকলটি চালু করে চিনির পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হলে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বর্তমানে মালামাল পাহারায় তিন শিফটে ৩০ জন কর্মী রয়েছেন, তাই চুরির সুযোগ নেই। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই মিলের কিছু যন্ত্রাংশ সচল থাকা অন্য চিনিকলগুলোতে পাঠানো হয়েছে।’

  • সর্বশেষ