শিরোনাম
◈ সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী এবং কোন পাঁচ বিষয় চ্যালেঞ্জ হতে পারে? ◈ ঢাকার যানজট কমাতে টোল থেকে বাস টার্মিনাল—প্রধানমন্ত্রীর ৮ নির্দেশনা ◈ মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা ◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের উখিয়ায় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার হাতকড়া পরিহিত পরোয়ানাভূক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার হাতকড়া পরিহিত পরোয়ানাভূক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা; ঘটনায় আহত হয়েছে পুলিশের দুই সদস্য। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারভূক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনায় ছিনিয়ে নেয়া আসামির স্ত্রীকে প্রধান করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ জনকে আসামি মামলা করেছে পুলিশ।

এ নিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় পরোয়ানা নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে না পেয়ে এখন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামি মিজানুর রহমানকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সাজিয়ে পুলিশ অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও ৬ বছর বয়সী কন্যা শিশুকে আটক করে নিয়ে যায়।

আর মায়ের সাথে ৬ বছর বয়সী শিশুকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সর্বত্রই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

তবে পুলিশ শিশুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর তথ্য অস্বীকার করেছে।

রোববার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন, উখিয়া থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হল- উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কাশিয়ারবিল এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী ফারজানা হাকিম নিথর (২৯), মিজানুর বড় ভাই মো. সালাহউদ্দিনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৪৩) ও বাবা জাফর আলম (৬৮)।

তবে ছিনিয়ে নেয়া আসামি মিজানুর রহমানের ৬ বছর বয়সী মেয়ে সন্তান মাইরা নামের এক শিশুকে গ্রেপ্তার করার তথ্য স্বজনরা দিলেও পুলিশ বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি জানিয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হল- উখিয়া থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক ( এএসআই ) স্বদেশ বিশ্বাস ও কনস্টেবল ওমর ফারুক। তারা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

মিজানুর রহমান (২৯) এর বড় ভাই মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন রাজাপালং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ৫ আগস্টের পর পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভূক্ত আসামি। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, শনিবার মধ্যরাতে উখিয়া থানায় দায়ের একটি মামলায় আদালতের পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামি মিজানুর রহমান রাজাপালং ইউনিয়নের কাশিয়ারবিল এলাকায় অবস্থানের খবরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশ আসামিকে নিজ বাড়ী খেকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে শোর চিৎকার শুরু করে। এসময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ১০ থেকে ১৫.জন অজ্ঞাত দূর্বৃত্ত সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা সহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়। পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারিরা গ্রেপ্তার আসামি মিজানুর রহমানকে ছিনিয়ে নিলে অন্ধকারে বাড়ীর পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ধাওয়া দিলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ নিয়ে পুলিশের পালিয়ে যাওয়ার দাবি করা আসামি মিজানুর রহমানের বড় ভাই মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট ভাই মিজানুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দ্যেশপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাটিতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর এখন জামিনে আছেন। একই মামলায় তার ছোট ভাই মিজানুর রহমানও এজাহারভূক্ত আসামি।

শনিবার মধ্যরাতে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে এসে বাড়ীতে না পেয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা, তার স্ত্রী এবং ছোট ভাই মিজানুরের স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়ে শিশুকে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয় ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এ নেতার।

তবে এ নিয়ে ৬ বছর বয়সী শিশুকে গ্রেপ্তার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, একটি মামলায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। আসামি দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক রয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসার সময় সংঘবদ্ধ জনতা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এতে পুলিশের হামলা ঘটনায় জড়িত এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে মায়ের সাথে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রোববার দুপুরে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই এবং সরকারি কাজে বাধা প্রধানের অভিযোগে ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য এএসআই স্বদেশ বিশ্বাস বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামী করে দায়ের মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওসি মুজিবুর জানান, বিকালে গ্রেপ্তার আসামিদের কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ