রতন কুমার রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহরের মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এক প্রসূতি মায়ের সিজারের পর ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় স্বজনদের নবজাতক বিক্রি করে বিল পরিশোধ করার জন্য চাপ দেওয়া ও আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে।খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে উক্ত ক্লিনিক মালিক পক্ষকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সন্মূখীন করেন।
মঙ্গলবার (৩১মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে নিয়ে ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শায়লা সাঈদ ত্বন্বী।অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতী এলাকার রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির দাবি, ভর্তি সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সিজারের পর অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় প্রসূতি ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি রোগীর ঔষধও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ৩-৪ জন লোক ক্লিনিকে আসছিল। তাদের মধ্যে একজন ৩০হাজার এবং অপরজনও ৩০হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করে নবজাতকটি নেওয়ার প্রস্তাব করে। পরিকল্পনা ছিল, সেই টাকা থেকে ২০হাজার টাকা ডাক্তার রেখে বাকি ১০হাজার টাকা রোগীর পরিবারকে দিয়ে নবজাতকটি হস্তান্তর করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।