চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগে যত ক্রসফায়ার (বন্দুকযুদ্ধ) হয়েছে সবগুলোই একটা কমন ডিজাইনে তৎকালীন সরকার (আওয়ামী লীগ) করেছে। সবগুলোই সিস্টেমেটিক অথবা ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাকের আওতাভুক্ত। সারা দেশে যতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে সেসব ঘটনায় হওয়া মামলার নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলাগুলো যাচাই–বাছাই করে যেগুলো ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেগুলো তুলে আনা হবে।’
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ১/১১-এর সময় যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে– সেগুলো যদি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হয়, তাহলে তা তুলে নিয়ে আসা হবে। যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, যারা গ্রেপ্তার হবেন, কিংবা যারা গ্রেপ্তার হবেন না, সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেগুলোর তদন্ত করবে। যদি সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন রকমের মামলা হয়েছে। কোনোটা আদালতে হয়েছে, কোনোটা থানায় হয়েছে। সবগুলোই আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কর্তৃক তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমরা কিছু মামলার তদন্ত করছি, কিছু স্থানীয়ভাবে পুলিশ করছে। আমরা মনে করি, এর মধ্যে দোষী ব্যক্তি যেমন আছে, অনেক নিরপরাধ মানুষও আছে। সেখানে পিক অ্যান্ড চুজের ঘটনা ঘটছে। কাউকে পুলিশ বিশেষ রিপোর্ট দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে, কাউকে জামিন দিচ্ছে, কাউকে আবার দিচ্ছে না। অনেক সময় যারা প্রকৃত দোষী তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেক নিরপরাধ মানুষ জেল খাটতেছে।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর যত মামলা সারা দেশে হয়েছে সবগুলোর তথ্য আমি চেয়েছি। এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ-সাত শ মামলার নথি জমা হয়েছে। আশা করছি, দু’একদিনের মধ্যে সারা দেশের সব মামলার কপি আসবে। এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করব, যাতে কোনো বিশেষ মহল মামলা বাণিজ্য করতে না পারে।’ যারা মামলা বাণিজ্য করছে, কাউকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করেছে- এমন পাওয়া গেলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করার কথাও জানান তিনি।