মনিরুল ইসলাম : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যখাত স্থবির হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান নোটিশটি উত্থাপন করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতির আলোকে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন, যা ১৯৬৫ সালে নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার করা হয়নি।
সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সমস্যা, পর্যাপ্ত বসার জায়গার সংকট এবং শয্যা স্বল্পতার মতো বাস্তব সমস্যা রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাসপাতালের পরিসর বাড়ানো হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
তিনি জানান, আগামী বাজেটের পর চিকিৎসা খাতের লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।