শিরোনাম
◈ প‌্যাট কামিন্স বললেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভবিষ্যতে অনেকেই টেস্ট খেলতে চাইবে না ◈ বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির সূচি ঘোষণা, স্মিথসহ পাঁচ অ‌স্ট্রেলিয়ান তারকার শেষ ভিজিট  ◈ আট হাজার সরকারি চাকুরের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সন্দেহজনক ◈ টানা কয়েক দফা কমানোর পর এবার স্বর্ণের দাম আবার বাড়ল! ◈ 'ফ্রি ইমরান খান’ ‌লেখা টি-শার্ট প‌রে মাঠে ঢুকতে বাধা, সিদ্ধান্ত পাল্টালো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ◈ ৪০ দিনের ছুটি শেষ, রোববার খুলছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ আজ বসছে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক ◈ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান টানাপোড়েন: সমঝোতার পথ সংকীর্ণ, বাড়ছে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ আশঙ্কা ◈ এপ্রিলে ৩ দেশ সফর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান: দ্য প্রিন্টের খবর ◈ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর কতটুকু কার্যকর?

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৯:২১ সকাল
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শরীয়তপুরে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘সাব্বাশ শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

শরীয়তপুরের জুলাই স্মৃতি নামক ভণ্ডামিতে আগুন দেওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন, আরেকজন সেটি ধারণ করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির বিভিন্ন স্থানে পোড়ার চিহ্ন দেখা গেছে, তবে ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জন শহীদের স্মরণে এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কংক্রিটের গাঁথুনির ওপর লোহার কাঠামো দিয়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক কাউসার মৃধা বলেন, ‘শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়কের একটি ফেসবুক পোস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও আমরা দেখতে পেয়েছি। আমরা চাই, যারা এই ঘটনায় জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

প্রশাসন যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা আরো বাড়বে। প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনে নামব।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল-নাজির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত। গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এভাবে আগুন দিয়েছে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই জানা থাকার কথা ছিল।

এখানে সরকারের এবং প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল স্মৃতিস্তম্ভটি রক্ষা করা। এতো গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় থাকার পরও কেন এটি প্রতিরোধ করা গেল না, সেটি প্রশ্নের বিষয়। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই জনগণ, রাষ্ট্র এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলমের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে ‘এসপি স্যার ফোন করেছেন। আমি আসছি’ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওসি (তদন্ত) আবির হোসেনও এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়