কুমিল্লার সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন ঝিনাইদহের মহেশপুরের একই পরিবারের বাসিন্দা।
তারা হলেন—পিন্টুর স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৯) ও তাদের দুই সন্তান খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। এছাড়া একই উপজেলার পানসি ডিঙ্গি এলাকার মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে মো. জেয়াদ বিশ্বাস (২৫) নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, যশোরের চৌগাছা উপজেলার আজমপুর গ্রামের খন্দকার সিরাজুল আলম (৬০) ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫) দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সিরাজুল আলম ওই গ্রামের ফকির চান বিশ্বাসের ছেলে।
এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ঢাকার তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা মৃত সালামত উল্লাহর ছেলে বাবুল চৌধুরী (৫৩) এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল রানা (৪৮)ও।
আরও প্রাণ হারিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলার সায়িদা (৯) নামের এক শিশু। সে সিরাজুদদৌলার কন্যা। এছাড়া চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাপাতলি পাটোয়ারী বাড়ির মমিনুল হকের ছেলে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (৭০) নিহত হয়েছেন।
মাগুরার মুহাম্মদপুর উপজেলার বালুখালি গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৫) এবং নোয়াখালীর সুধারামপুর উপজেলার সুকিগঞ্জ এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে মো. রায়হান (২৮) নিহতদের তালিকায় রয়েছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার নিহতদের পরিচয় জানিয়ে বলেন, ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনায় রেলওয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে, রোববার ভোর রাত ৩টার আগে আগে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস উঠে গেলে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন বাসটিকে ধাক্কা দেয়।