সপ্তম শতকে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক কেমন ছিল- তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যায় না। সেই সময়ে মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় মাটির দেওয়াল, খেজুর গাছের গুঁড়ি ও পাতা দিয়ে তৈরি এক সাধারণ তাঁবুতে অসুস্থদের শুশ্রূষা দিচ্ছেন একজন নারী। আহতদের ক্ষত ধুয়ে পরিষ্কার করা থেকে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া- সবই করছেন তিনি।
রোগীদের সঙ্গে তিনি এমন মমতাময়ী আচরণ করতেন যে তার সেবা কেবল চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত না, বরং অসুস্থ ব্যক্তির মধ্যে উৎসাহ ও আশার সঞ্চার করত।
ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে নার্সিংয়ের স্থপতি রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া বা আসলামিয়া। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রথম নারীদেরও একজন। খবর বিবিসির।
রুফাইদা আল-ইসলামিয়াকে নিয়ে গবেষণা করেছেন মুস্তাফা এম. বৌদ্রাক, মুতলাক বি. আল-মুতাইরি, ফাতিমা এস. আল-সুলামী এবং হিশাম এম. আল-ফায়াদ।
তাদের গবেষণার তথ্য বলছে, খাজরাজ গোত্রের বনু আসলাম শাখার সদস্য রুফাইদা, ইয়াসরিব শহরে ৫৯৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইয়াসরিব, ইসলামের নবী মক্কা থেকে হিজরত করার পর যা মদিনা আল-নবী বা মদিনা নামে পরিচিতি পায়।
‘প্রথম মুসলিম নার্স এবং ইসলামি শিক্ষার পথিকৃৎ রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়ার মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওই গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাদ আল-আসলামি নামে একজন চিকিৎসক ও সার্জনের কন্যা রুফাইদাহ তার বাবার সহকারী হিসেবে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
সহানুভূতিশীল সেবিকা ও কার্যকর প্রশাসক
মদিনার মসজিদে নববীতে ছোট একটি তাঁবুতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রুফাইদাহ, যেখানে অসুস্থদের চিকিৎসা করা হত।
পরবর্তীতে, যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের চিকিৎসার জন্য ‘খেইমাহ আল-রুফাইদাহ’ নামে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
এ হাসপাতালটি মদিনার সেই স্থানের কাছাকাছি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে এখন সাহাবি সালমান আল-ফারসির নামে মসজিদটি অবস্থিত।
রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়ার এ হাসপাতাল সম্পর্কে ইবনে আবদুল বারের ‘আল-ইসতিয়াব’, ইবনে আল-আথিরের ‘আসাদ আল-গাবাহ’ এবং ইবনে হাজার তার ‘আল-ইসাবা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
‘ইসলামে হাসপাতালের ইতিহাস’ অনুসারে, রুফাইদার এ চিকিৎসা কেন্দ্রটিই ছিল ইসলামের প্রথম ‘হাসপাতাল’ বা ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা ইউনিট, যা প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা যেত।
ঐতিহাসিকদের মতে, এখানে অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ব্যান্ডেজ, ওষুধ, ভেষজ এবং তুলার বন্দোবস্ত ছিল। অভাবগ্রস্ত রোগীদের সেবা করার দায়িত্ব রুফাইদা নিজেই গ্রহণ করেছিলেন।
তার চিকিৎসা সেবার মধ্যে ছিল প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি চিকিৎসা, গুরুতর আহতদের যত্ন, যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের পৃথকীকরণ, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী যত্ন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, এমনভাবে চিকিৎসাকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে রোগীরা কঠোর মরুভূমির আবহাওয়ায় থেকেও ছায়া ও পরিষ্কার পানীয় জল পেত।
একজন দয়ালু এবং মমতাময়ী নার্স ছিলেন রুফাইদাহ, যিনি যুদ্ধের সময় একজন অত্যন্ত কার্যকর সংগঠক হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছিলেন।
প্রথম নার্সিং স্কুল
রুফাইদা আল-ইসলামিয়া নিজেকে একজন ক্ষমতাবান ও দূরদর্শী নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্বেচ্ছাসেবী নার্স হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে অন্য নারীদেরও ক্ষমতায়িত করেছিলেন তিনি।
‘অ্যাপ্রেইজিং রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া’ শীর্ষক গবেষণা অনুসারে, নিজের বাবার সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই, নারী স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ব্যবহারিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন রুফাইদাহ।
প্রয়োজনীয় নার্সিং দক্ষতা শেখানোর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক নার্সদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি।
এছাড়া রোগীদের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নার্সদের মধ্যে সরবরাহ করেছিলেন রুফাইদা আল-ইসলামিয়া। যা পরবর্তীতে ‘প্রথম আনুষ্ঠানিক নার্সিং প্রশিক্ষণ’ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পায়।
‘৬২২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম আনুষ্ঠানিক নার্সিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন রুফাইদা আল-ইসলামিয়া। যেখানে, ইসলামের নবী এবং তার সাহাবিদের কয়েকজনের স্ত্রীকে সেবিকা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা যুদ্ধের (৬২৩-৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) সময় মুসলিম বাহিনীকে সহায়তা করতে পাà¦