রাজবাড়ী জেলার সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ মাসুদ রানার স্ত্রী রহিমা আক্তার রিতা ঘরে রাখা প্রায় চার লাখ টাকা নিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মাসুদ রানা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা জানান, জীবিকার তাগিদে চার বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। গত এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের মেয়ে রহিমা আক্তার রিতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়েতে রূপ নেয়। বিয়ের পর রিতাকে নিজের কাছে সৌদি আরবে নিয়ে যান মাসুদ।
মাসুদ রানা জানান, গত ১৮ জানুয়ারি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন তার স্ত্রী রিতা সেখানে নেই। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং ড্রয়ারে গচ্ছিত রাখা প্রায় ৪ লাখ টাকা উধাও। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, নোয়াখালীর আরমান নামে এক দালালের সঙ্গে রিতা পালিয়ে গেছেন।
প্রবাসীর দাবি, তার স্ত্রীর এই পলায়নের নেপথ্যে শাশুড়ি ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীদের যোগসাজশ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তার মা ও ভাবীরা আগে থেকেই জানতেন। তারা আমাকে কোনও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না, বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটিই রিতার প্রথম পালানোর ঘটনা নয়। বিয়ের চার মাস আগেও তিনি একবার বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন, পরে স্বজনরা তাকে খুঁজে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের সূত্রে আরও জানা গেছে, রিতার আগের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। সেই সংসার ত্যাগ করেই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এলাকায় তার নামে নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন রয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থানরত মাসুদ রানা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে রক্ত পানি করে টাকা কামিয়েছি। আজ সব হারিয়ে আমি নিঃস্ব। আমার স্ত্রী কোথায়, কী অবস্থায় আছে তাও জানি না।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিতার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় থানা-পুলিশ জানিয়েছে, প্রবাসীর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।