শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪৭ বিকাল
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জীবননগরে রজনীগন্ধা চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য : কম খরচে বেশি লাভ, ৬ মাসেই ৪ লাখ টাকার ফুল বিক্রি

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): সুগন্ধি ফুল হিসেবে রজনীগন্ধার কদর দীর্ঘদিনের। রাতে ফুটে চারপাশে মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেওয়ায় ফুলটির নাম হয়েছে রজনীগন্ধা। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এই ফুলের বাণিজ্যিক চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক।

উপজেলার উথলী গ্রামে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধা চাষ করছেন কৃষক আক্তারুজ্জামান যুদ্ধ। সরেজমিনে দেখা গেছে, তার বাগানজুড়ে সাদা রজনীগন্ধা ফুলে ভরে গেছে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ফুলের মিষ্টি সুবাস।

ফুল গাছের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মহর আলী জানান, রজনীগন্ধা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। এতে খুব বেশি সার বা কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। একবার চাষ করলে সারা বছরই ফুল পাওয়া যায়। একটি স্টিক তুলে নেওয়ার পর একই গাছ থেকে আবার নতুন স্টিক গজায়।

তিনি জানান, প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে মাত্র ছয় মাসে চার লাখ টাকার বেশি ফুল বিক্রি করা হয়েছে। এই বিক্রি সারা বছরই চলতে পারে।

মহর আলী আরও বলেন, শুরুতে ফুলের স্টিক তুলে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে ঝরা বা পাপড়ি ফুল বিক্রি করা হচ্ছে, যার চাহিদা বেশি। প্রথমদিকে প্রতি স্টিক ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ঝরা ফুল প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে রমজান মাসে ফুলের চাহিদা ও দাম কম থাকায় আপাতত ফুল তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের পর আবার বিক্রির জন্য ফুল তোলা শুরু হবে বলে জানান তিনি।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, রজনীগন্ধা চাষে কম খরচে অল্প সময়েই ভালো লাভ করা সম্ভব। সারা বছর এই ফুলের বাজার রয়েছে। বাসাবাড়ি ও অফিসে সুগন্ধ ছড়াতে অনেকেই ফুলের স্টিক সংরক্ষণ করেন। এছাড়া বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, মালা, পুষ্পস্তবক ও বাসরঘর সাজাতেও রজনীগন্ধার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

তিনি জানান, জীবননগর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফুল চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়