জামাল হোসেন খোকন: চুয়াডাঙ্গায় অর্থকরী ফসল হিসেবে তুলা আবাদ দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাইহীন মৌসুমের কারণে তুলার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
জেলা তুলা উন্নয়ন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন তুলা উৎপাদিত হবে। যার বাজারমূল্য ১০৫ কোটি টাকারও বেশি। ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতে জেলায় তুলা আবাদ শুরু হয়। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ ১২–১৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও ফলন পাওয়া যায় ১৪–১৬ মণ। বাজারদর বিঘাপ্রতি ৫৩–৬১ হাজার টাকা হওয়ায় কৃষকদের লাভজনক আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠছে তুলা। তুলার স্বল্প সময়ে ফসল উত্তোলন, কম খরচ এবং নিশ্চিত লাভ কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এতে দেশের তুলা আমদানিনির্ভরতা কমাবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষকদের দাবি, মাঠজুড়ে তুলা গাছের বৃদ্ধি এবং ফুলের পরিমাণ এবার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
জেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা দেবাশীষ বলেন, “জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হয়েছে।
উৎপাদিত তুলার বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১০৫ কোটি টাকারও বেশি বলে আমাদের ধারণা।”
চুয়াডাঙ্গার তুলা উৎপাদনে এ ধারাবাহিক সাফল্য কৃষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনাকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।