এস এম সালাহউদ্দিন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার নিরসনে মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
বুধবার ১১ মার্চ উপজেলার জয়কালী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে আনোয়ারা সিটি সেন্টারের সামনে সিএনজি ও অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে সড়কের দুই পাশে এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি ও অটোরিকশা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট চালকদের এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্কিং করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন ইউএনও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা সিটি সেন্টার ও জয়কালী বাজার এলাকায় সিএনজি ও অটোরিকশার অবাধ পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এতে করে সাধারণ যাত্রী, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু জয়কালী বাজার নয় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা যেমন বটতলী, সেন্টার ও চৌমুহনী এলাকাতেও প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে বাজারের সময় এবং অফিস শেষে এসব স্থানে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের মতে, সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল, বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই এসব এলাকায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তারা এসব স্থানে স্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসনে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে বটতলী, সেন্টার ও চৌমুহনী এলাকার যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেখতে চান এলাকাবাসী।