সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারে উখিয়ার পাহাড়ী এলাকায় সেহেরীর সময় ঘরের ভেতরে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা।
তবে ঘটনার ব্যাপারে নিহত গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ী ও বাপের বাডীর লোকজনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
বুধবার ভোররাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান, উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাছির উদ্দিন।
নিহত জাজিদা আক্তার (২৫) পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকার নুরুল বশরের ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, জাজিদা আক্তারের স্বামী শফিকুল পেশায় একজন দিনমজুর। ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়ীতে ছিলেন না। রোজা শুরুর ২/৩ দিন পর থেকে কাজের কথা বলে তিনি বান্দরবান যান।
নিহত গৃহবধূর শ্বশুর নুরুল বশর বলেন, ছেলে শফিকুল ইসলাম তার বাড়ী থেকে সামান্য দূরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকে। জাজিদা আক্তারের শ্বাশুরী রোজা শুরুর আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। এতে রমজানের শুরু থেকে ছেলের বউ তাদের জন্য সেহেরী ও ইফতারী তৈরী করে দিতেন। প্রতিদিন ভোররাতে সেহেরী তৈরী শেষ হলে খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে জেগে দিত।
বুধবার ভোররাতে সেহেরীর শেষ সময়ের ১০/২০ মিনিট আগেও ডেকে না দেয়ায় তিনি খোঁজ নিতে যান। এসময় ঘরের বাহিরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে অন্ধকার ঘরের ভেতরে আলো জ্বালিয়ে জাজিদা আক্তারকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন।
তবে ঘটনার ব্যাপারে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, তার মেয়ে জাজিদার সাথে শফিকুলের মধ্যে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। জুয়া খেলা সহ নানা অনৈতিক কাজে সে লিপ্ত ছিল। ঠিক মত স্ত্রী-সন্তানদের ভরনপোষন দিত না। এ নিয়ে বিয়ের কয়েক বছর না যেতেই তার মেয়ের সাথে জামাতার মধ্যে কলহ শুরু হয়। স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শ্বাশুরীও তার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন চালাত। এ নিয়ে শ্বশুর-শ্বাশুরীর সাথে তার মেয়ের কোন সুসম্পর্ক ছিল না। মাঝে মধ্যে নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ীও চলে আসত।
কিন্তু ঘটনার পর শ্বশুর সহ জামাতার পরিবারের লোকজন ভিন্ন কথা বলায় পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার ব্যাপারে পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাছির উদ্দিন জানান, ভোররাতে পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকায় এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে খুনের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত নারীর ঘাড়ের গভীর এবং থুতনীতে সামান্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
কে বা কারা, কি কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানান তিনি।
নাছির উদ্দিন জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।