শিরোনাম
◈ আ‌লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ম‌্যান‌চেস্টার সিটির জয় ◈ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর ◈ কুমিল্লায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা খুন : পুলিশ সুপার ◈ দেশ গঠনে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৭, ১৩ নারী ও ১ শিশু ◈ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৬: খসড়া প্রকাশ ৫ নভেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা ২৫ নভেম্বর ◈ সৌদি আরবের আইনে সাজা হলে সরকারের কিছু করার থাকে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ◈ মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে যা বললেন ইশরাক ◈ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার, কর্মসংস্থান ও যাতায়াত সুবিধা নিয়েও উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী ◈ সৌদির রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল বিমান, ২১ অক্টোবর থেকে চালু হতে পারে দাম্মাম রুট

প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২০ দুপুর
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদেশি ঋণে চাপ বাড়ছে: পাওয়ার চেয়ে পরিশোধেই বেশি ব্যয়

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। গত দেড় দশকে এই প্রবণতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময় অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদেশি ঋণ। ২০০৯ থেকে ২০২৪— এই ১৫ বছর ধার করার প্রবণতা বাড়ে প্রায় চার গুণ। সেসব প্রকল্পের অনেক কাজ শেষ না হলেও এখন ঘনিয়ে আসছে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। একই সময়ে কিস্তি দিতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে সুদ প্রায় ৮৯ কোটি ডলার। তার মানে দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ এখন বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে খরচ হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে রিটার্ন আসেনি। দেশ এগিয়েছে, অনেক প্রকল্প আমরা করেছি। কিন্তু রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না। তার মানে ঋণ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের আর বাড়েনি। সুতরাং যে ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে, সেটার মধ্যে কোনো গলদ আছে কি না?

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ২০২৬-২৭ সালে আমরা যত বৈদেশিক সহায়তা পাবো, তারচেয়ে বেশি চলে যাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ রয়েছে এবং ট্রেজারি, বন্ড যেগুলো ছাড়া হয়েছে সেটার কারণে অনেকগুলো দায় তৈরি হয়েছে সরকারের ওপরে, সেগুলো শোধ করতে হবে।

Advertisement

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন সহযোগী কিংবা দেশের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে গতবছরের তুলনায় ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৮ কোটি ডলার। ঋণের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া দেশের তালিকায় আছে ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপান। বহুজাতিক সংস্থা হিসেবে একই প্রবণতা দেখাচ্ছে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি)।

তবে, আগের চুক্তি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় করেছে রাশিয়া। সংস্থা হিসেবে এগিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। এরপরই আছে চীন, জাপান ও ভারত।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সংশোধিত বাজেট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরবর্তী বাজেটও গুরুত্বপূর্ণ। তখন বুঝা যাবে, সরকারের কতটুকু আর্থিক সক্ষমতা আছে। কারণ কিছু খরচ করতেই হবে, ঋণের পরিষেবা তার মধ্যে একটা।

ড. মাহফুজ কবীর বলেছেন, সরকারের দিক থেকে নির্দেশনা দিতে হবে যে, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আমরা যেন কর পরিশোধ করি। কর পরিশোধ করার জন্য যদি কোনো নীতি পরিবর্তন করতে হয়, ব্যবসায়ীরা যেন স্বস্তি পায় সেটাও করতে হবে, একইসঙ্গে করের আওতা বাড়াতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে এখন অনেক ব্যবসা।

উল্লেখ, গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে সাত বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বাংলাদেশ। উৎস: যমুনা টেলিভিশন।

 

  • সর্বশেষ