হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: আজ ১৮ ফাল্গুন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে ফরিদপুরের জনপদ। শীত বিদায় নিলেও ভোরের এই কুয়াশা যেন শীতের চিরচেনা রূপকেই আবারও ফিরিয়ে আনল।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক এবং গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই ছিল কুয়াশার সাদা চাদর। দূরের ভবন, গাছপালা এমনকি চলন্ত যানবাহনও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এতে করে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া ছিল বেশ উষ্ণ। দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে কুয়াশার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে শীতের মতো অনুভূতি পান। কেউ কেউ আবার শীতের পোশাক বের করে পরেছেন।
কৃষকদের জন্য এই কুয়াশা কিছুটা স্বস্তির হলেও উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও সবজি চাষিরা বলছেন, অতিরিক্ত কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে স্বল্প সময়ের কুয়াশা জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শহরের শ্রমজীবী মানুষদের কাজে যেতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা কম দৃশ্যমানতার কারণে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করেন। ভোরে নদীপথেও নৌযান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে এমন হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গিয়ে স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরে আসে।
ফাল্গুন মানেই রঙিন প্রকৃতি আর বসন্তের আমেজ। কিন্তু আজকের সকালটি যেন স্মরণ করিয়ে দিল—ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা অস্বাভাবিক নয়। শীতের বিদায়ের পরও মাঝে মাঝে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ফরিদপুরবাসীর কাছে এক ভিন্ন অনুভূতি এনে দেয়।