শিরোনাম
◈ 'ভবিষ্যৎ তোমাদের'—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর নতুন শিক্ষা পরিকল্পনা ◈ জাপান বধের মিশনে নেইমারকে ছাড়াই নেমেছে ব্রাজিল, খেলাটি সরাসরি দেখুন ◈ চার বছর পর আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ◈ করমুক্ত আয় বাড়ানো, কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল ও স্টার্টআপে ৫০০ কোটি টাকা: বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ জনবান্ধব প্রস্তা ◈ কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের আওতার বাইরে রেখে সংসদে অর্থ বিল পাস ◈ সদ্য চালু হওয়া ভারতীয় ভ্রমণ ভিসার ‘স্লট’ নিয়ে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ (ভিডিও) ◈ অর্থবিল পাস, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর ◈ একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ১২৪ ◈ করদাতাদের স্বস্তি দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭১৬

প্রকাশিত : ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৫০ বিকাল
আপডেট : ২০ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সালথায় পাটবীজ উৎপাদনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত, কৃষকের মুখে হাসি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটবীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির ফলে চলতি অর্থবছরে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে এবং পাটচাষে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ একর জমিতে নাবী পাটের আবাদ করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল মানসম্মত দেশীয় পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ নির্বাচন, সঠিক সময়ে বপন, সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন পাওয়া গেছে।

এ বছর প্রায় ২ হাজার কেজি উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের বাজারেও সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে তারা মূলত পাটের আঁশ উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিতেন। তবে এবার সরকারি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পাটবীজ উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। এতে তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হচ্ছে।

সামজুদ্দিন মাতুব্বর নামে এক কৃষক বলেন, “আগে শুধু আঁশের জন্য পাট চাষ করতাম, কিন্তু এবার বীজ উৎপাদন করে ভালো দাম পাচ্ছি। এতে লাভের পরিমাণও বেশি।”

রহিম মোল্যা নামের আরেক কৃষক জানান, পাটবীজ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন তারা। এতে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, “সালথার মাটি ও জলবায়ু পাটবীজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেছি এবং আশানুরূপ সফলতা পেয়েছি। কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মানসম্মত দেশীয় পাটবীজ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশীয় পাটবীজের ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “পাট আমাদের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। সালথায় পাটবীজ উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য টেকসই আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম পাটবীজ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষির উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়