এম, এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরলে এবারেও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির ডাকে ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছ মুকুলে মুকুলে ছেয়ে যাবার কারণে, বাগান পরিচর্চা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের লিচু চাষীরা। লিচু চাষীদের দাবী লিচুর পচন রোধ ও দীর্ঘ সময় ধরে বাজারজাত করতে মৌসুম শুরুর আগেই লিচু সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন কোরা হোক।
দিনাজপুর জেলা শহরের নিকটবর্তী উপজেলা বিরল। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির লিচু বাগান। বিশেষ করে মাধববাটী ও রবিপুর এলাকায় দেশের উৎকৃষ্টমানের লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। যেমন বোম্বাই, মাদ্রাজী, বেদানা, চায়না-থ্রি, চায়না-টু ও কাঁঠালি জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়। এই উপজেলার লিচু সু-স্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় লিচুর চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। এবারে প্রতিটি গাছে গাছে লিচুর পর্যাপ্ত মুকুল দেখা দিয়েছে। তাই লিচু চাষীরা এবার বেশী লাভের আশায় দিন-রাত লিচু গাছের পরিচর্চা করে চলছেন।
লিচু চাষীরা জানান, লিচু খ্যাত এ উপজেলায় লিচু সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি লিচু মৌসুমে বিপুল পরিমান লিচু নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রতিবারে ক্ষতিতে পড়তে হয়। তাই এবার লিচু উৎপাদন মৌসুমের আগেই লিচু চাষীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সরকারি ভাবে একটি লিচু সংরক্ষণাগার বা হিমাগার তৈরী করা হোক।
লিচু চাষী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা জানান, এবারেও প্রায় প্রতিটি গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। তাই মুকুল এবং গাছ যেন ঠিকমত রস পায়, তার জন্য প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হচ্ছে। গাছ এবং মুকুল ঠিক রাখতে স্প্রেদিয়ে বালাই নাশক বিভিন্ন প্রকার ঔষুধ ছিটানো সহ বিভিন্ন ভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে।
লিচু ব্যবসায়ী আফছারুল ইসলাম জানান, লিচু সিজনে লিচু নষ্ট হবার ভয়ে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে লিচু গুলো বাজার জাত করে থাকি। ফলে অনেক সময় আমরা সঠিক দাম পাইনা। হিমাগারের মাধ্যমে আমরা যদি এই লিচুগুলো কিছুদিন সংরক্ষণ করতে পারতাম, তাহলে কৃষকরা বেশী লাভবান হতে পারতো। তাই সকারের কাছে আমার অনুরোধ আমাদের এলাকায় যেন লিচু সংরক্ষনের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে লিচু চাষীদের সব রকমের পরামর্শ দিয়ে আসছি।