তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে নরসিংদীর রায়পুরায় ‘রফিকুল ইসলাম’কে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২ জন আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।(১৮ ফেব্রয়ারি) বুধবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় র্যাব-৯ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন নরসিংদী জেলার রায়পুরা চরমধূয়া এলাকার মৃত নয়ন মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (২২) এবং রিমন মিয়া (২০)।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়, ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম রফিকুল ইসলাম রফিক নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিমের ছোট ভাইয়ের মেয়েকে ৮নং বিবাদী রাকিব মিয়া ১নং বিবাদী আসিফ মিয়ার সহায়তায় জোর পূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। উক্ত বিষয় নিয়ে ভিকটিম ১নং বিবাদী আসিফকে তার ছোট ভাইয়ের মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে বললে, সে
তালবাহানা করে এবং ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে। এরই জের ধরে ঘটনার দিন গত ৮/০২/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২০.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম চরমধুয়া
ইউনিয়নের গাজীপুর বাজার হতে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গাজীপুর এলাকায় পৌঁছা মাত্রই পূর্ব হতে ওঁৎ পেতে থাকা বিবাদীগণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, বল্লম, লাঠি-সোটা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের উপর আক্রমণ করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করলে ভিকটিম প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে ভিকটিমকে গুলি করে গুরুতর জখম করেন।
পরবর্তীতে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিবাদীগণ ভিকটিমকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। অতঃপর ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদীর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২৩.০৫ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর কৃষ্ণনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মামলা নং-১০ মূলে নরসিংদীর রায়পুরায় রফিকুল ইসলাম’কে গুলি করে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৮ ও ১০নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।