হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রায় ১৮ হাজার পোস্টাল ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে এসব ভোটারের নিবন্ধন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে চারটি আসনের পোস্টাল ব্যালট বাক্স তালাবদ্ধ করা হয়। পরে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস।
তিনি জানান, ফরিদপুর জেলার চারটি আসন থেকে মোট ১৮ হাজার ১০৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই শেষে ১০৮টি নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হয়। বাকি ১৭ হাজার ৯৮৮ জন পোস্টাল ভোটারের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৬ হাজার ১১৯ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক হাজার ৯৭৭ জন।
আসনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৪ হাজার ৮৬১ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৩ হাজার ৫৫১ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৩ হাজার ৮৪৫ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে সর্বাধিক ৫ হাজার ৭৩১ জন পোস্টাল ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালট বাক্সগুলো খোলা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, ব্যালটবাক্স তালাবদ্ধ করার সময় প্রতিটি বাক্সে ওয়ানটাইম লক ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা বক্সগুলোর নাম্বার নোট করে রেখেছেন। ব্যালট বাক্স খোলার সময় ওই নাম্বারগুলো মিলিয়ে দেখা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সন্দেহের সুযোগ না থাকে।
অনুষ্ঠানে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহম্মেদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা, ফরিদপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসূত্রে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে না পারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা আগামভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এ ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে।