শিরোনাম
◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ◈ বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক ◈ হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ ◈ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৩ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সন্তানের সামনে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা: দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা: নেশার টাকা না পেয়ে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ দাফনের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্ত স্বামী দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটে বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি পূর্বপাড়ার জজু সর্দারের বাড়িতে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে লিজা আক্তার (৩৪) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারনে মারা যান।

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত লিজা আক্তার পূর্ণমতির পূর্বপাড়ার জজু সর্দারের বাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের মেয়ে ও বাউল শিল্পী ইমন সরকারের বোন। তিনি তিন সন্তানের জননী। তার এক ছেলে রিফাত হোসেন (১৩), দুই মেয়ে সাথী আক্তার (৯) ও সানজিদা আক্তার (৩)। অভিযোগ রয়েছে, মর্মান্তিক ঘটনার সময় তিন সন্তানই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে স্বামী দুলাল মিয়া নেশার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্তানদের সামনে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত করে স্ত্রীকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের মা খুকি বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বুড়িচং থানায় ঘাতক স্বামী দুলাল মিয়া ও তার শ্বশুর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দাফনের পর নিহতের মা, বোন ও এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, “দুই দিন হয়ে গেল, এখনো আসামি ধরা হয়নি। এটি শুধু একটি হত্যা নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী দুলাল মিয়া ও তার শ্বশুর প্রকাশ্যে পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে।”

তবে মামলার দুই দিন পার হলেও প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • সর্বশেষ