কুমিল্লা সংবাদদাতা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি দাবি করেছেন যে তার মনোনয়ন বাতিল হয়নি এবং তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে বহাল আছেন। ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার মধ্যে তার আইনজীবীর সাথে কথোপকথনের একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন।
আইনি জটিলতার প্রেক্ষাপট: মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির আইনজীবী জানান, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মালিকানাধীন 'ম্যামপাওয়ার' কোম্পানির নামে প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটে লোন ছিল। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৬ কোটি টাকা রিসিডিউল করা হলেও বাকি ১০ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
হাইকোর্টের ইনজাংশন ও বর্তমান পরিস্থিতি: ১. প্রাথমিক স্থগিতাদেশ: গত বছরের ২রা নভেম্বর হাইকোর্ট মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি ও তার কোম্পানিকে ঋণ খেলাপি ঘোষণা না করতে এবং সিআইবি (CIB) তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করতে তিন মাসের একটি ইনজাংশন (নিষেধাজ্ঞা) জারি করে। ২. মনোনয়ন বৈধতা: এই ইনজাংশনের ভিত্তিতেই গত ২রা জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্ক্রুটিনি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ৩. চেম্বার আদালতের আদেশ: সম্প্রতি প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স হাইকোর্টের সেই ইনজাংশনের বিরুদ্ধে আপিল করলে চেম্বার জাজ আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেন।
মনোনয়ন কি বাতিল হয়েছে? মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির আইনজীবী ব্যাখ্যা করেছেন যে, চেম্বার আদালত শুধুমাত্র হাইকোর্টের ইনজাংশনটি স্থগিত করেছেন, কিন্তু তার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো সরাসরি আদেশ দেননি। যেহেতু গত ২রা জানুয়ারি তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং সেই বৈধতাকে এখন পর্যন্ত কেউ চ্যালেঞ্জ করে ইনভ্যালিড বা অবৈধ করেনি, তাই আইনত তার প্রার্থিতা এখনো টিকে আছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, আমার নমিনেশন বাতিল হয়নি। চূড়ান্ত শুনানি পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি এবং আমি বিশ্বাস করি আইনি প্রক্রিয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে।"