জীবনে কোনো ইবাদত না করেও কেউ যদি বিড়ি (সিগারেট) টেনে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় আর তা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে তার পেছনের সব গুনাহ মাফ—এমন মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক।
গত বুধবার রাতে রাজাপুরে এক উঠান বৈঠকে ফয়জুল হক এসব কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য Dr. Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh নামের ফেসবুক পেজে লাইভ করা হয়। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক বিড়ি খান না? ১০টা বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, ওই দোকানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন আর লগলগে বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান মাইরা বলবেন—কী, খবরডা কী, ক দেহি। কারবারডা কি দেশের অবস্থা দেখছ, দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো আর কোনো মানুই দেহি না।
‘শোনেন, আমি তো গল্পের ছলে বলি, তাই বলার কারণে আপনাদের আনন্দ লাগতেছে। কিন্তু এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো কখনো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই; ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়া আল্লাহর দ্বারে কবুল হইয়া যায়, এমনও হইতে পারে, পেছনের সব মাফ কইরা দিয়া আল্লাহ তারে তো ভালোও কইরা দিতে পারে। অতএব, যেকোনো অবস্থাতেই বসে থাকবেন না।’
নারীদের উদ্দেশে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘জীবনে অনেক গপ্পো (গল্প) মারছেন, প্রত্যেক দিন বিকেলে উঠানে যাইয়া গপ্পো মারা, এরপর চুলের বেণি বাঁধা একজন আরেকজনের মাথা আঁচরাইয়া দেওয়া; কিন্তু আজকে থেকে একটা মাথাও আর ফ্রি আঁচরাইবেন না। যাইবেন ভাবির মাথায় চিরুনি রেখেই পেনাপোডা (আলোচনা) শুরু করবেন দাঁড়িপাল্লার।
‘এত দিন তোমার কথা শুনছি, মাথার উঁকুন এনে দিছি, আজকে থেকে তোমার কাছে আসলে তুমি আমার কথা শোনবা। তোমারে শোনাব তুমিও আরেকজনকে বলবা। আগামী নির্বাচনে অন্তত একবারের জন্য কায়েদা সাহেব হুজুরের নাতি ড. ফয়জুল হকরে রাজাপুর–কাঁঠালিয়ায় দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবা। এরপর কমপক্ষে মা-বোন, আত্মীয়স্বজনসহ ২০ জন মহিলাকে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’
জামায়াতের এ প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত ঘুমাবেন। এরপর রাতে বাসার মধ্যে ভালো খাবার রান্না করে স্বামীকে আদর-যত্ন করে তুলে আপনিসহ আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়ে সবার আগে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে এরপর ভোট গুনে তারপর বাড়ি এসে বিজয়মিছিল করে ঘুমাবেন।’
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ফয়জুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার মূল কনসেপ্ট ছিল—যে যে অবস্থায় আছে, সে সেই অবস্থায় দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিতে পারে। আল্লাহ কার দাওয়াত কার হাত কখন কবুল করেন, তা কেউ বলতে পারব না। পুরো ভিডিও দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কেউ হয়তো বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।’ উৎস: আজকের পত্রিকা ও গ্লোবাল টিভি।