স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: কুমিল্লার সবজির বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম নেমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। এতে স্বস্তি ফিরেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের রান্নাঘরে। দাম কম থাকায় ক্রেতারা অনায়াসেই শীতকালীন নানা ধরনের সবজি কিনে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারছেন।
গতকাল বুধবার কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়—প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম। শিম, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, গাজরসহ বেশিরভাগ সবজির দামই ক্রেতাদের হাতের নাগালে রয়েছে। ফলে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আগের মতো দরদাম বা বাকবিতণ্ডা চোখে পড়েনি।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, বর্তমান সবজির দাম তাদের মাসিক আয়ের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন ক্রেতা বলেন, “আমাদের আয়ের তুলনায় এই মুহূর্তে সবজির দাম সহনীয়। পরিবার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে খেতে পারছি। তবে এই দাম যদি সারা বছর থাকত, তাহলে আমাদের জন্য আরও ভালো হতো।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে পাইকারি বাজারেই সবজির দাম কম রয়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহের পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের কারণেই দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
ক্রেতাদের মধ্যে জান্নাত নামে একজন বলেন, “শীত এলেই আমরা মধ্যবিত্তরা একটু স্বস্তি পাই। তখন পছন্দের সব সবজি কিনতে পারি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দাম কি সব সময় রাখা যায় না? যদি প্রশাসন চায়, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব কিছু নয়। এখন শিম ৬০ টাকা কেজি, নতুন আলু ২৫ টাকা, লাউ ৭০ টাকা—এই দামগুলো যদি বছরজুড়েই রাখা যেত, তাহলে আমাদের মতো মানুষের অনেক উপকার হতো।”
রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক মিয়া বলেন, “আমরা তো খুব বেশি আয় করতে পারি না। তবুও শীতকালে সবজির দাম কম থাকায় আয়ের মধ্যেই সবজি কিনে খেতে পারি। কিন্তু গরমকালে পরিস্থিতি একেবারে উল্টো হয়ে যায়। তখন দাম কমার কোনো নামগন্ধ থাকে না, বরং আরও বেড়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে অনেক সময় শুধু ভাত খেয়েই দিন পার করতে হয়।”
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসন যেন সারা বছরই বাজার মনিটরিং জোরদার রাখে এবং সিন্ডিকেট বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তাদের প্রত্যাশা—শীতকালীন স্বস্তির বাজার যেন শুধু কয়েক মাসের জন্য নয়, বরং বছরের অধিকাংশ সময় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকে।