মোঃ আদনান হোসেন, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাইয়ে নিজ জমিতে পুকুর খননের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শর্তসাপেক্ষ অনুমতি নিয়ে মাটি কাটতে গেলে উত্তেজিত স্থানীয়দের হামলায় একটি ভেকু মেশিন ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি বহনকারী তিনটি ডাম্প ট্রাকও ভাঙচুর করা হয়।
গতকাল রাতে ৯টারদিকে উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের দীঘলগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ইউএনও খান সালমান হাবিব ভেকুতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ভেকুর মালিক রুমান মিয়াকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও খান সালমান হাবিব ও উপ জেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি।
জমির মালিক জসিমউদ্দিন বাদী হয়ে ২৯ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিমউদ্দিন তার কৃষিজমিতে মাছ চাষের জন্য গত ৯ নভেম্বর তৎকালীন ইউএনও মামনুন আহমেদ অনীকের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে পুকুর খননের অনুমতি নেন—শর্ত ছিল মাটি বিক্রি করা যাবে না। মঙ্গলবার অনুমতি অনুযায়ী রুমান মিয়া ভেকু নিয়ে কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের একাংশ কৃষিজমি নষ্ট হবে দাবি তুলে বাধা দেয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা ভেকু ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আগুন নেভাতে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজিত জনতার বাধার মুখে তারা ফিরে আসে। ফলে ভেকু ও মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেকু মালিককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। পরে তাকে একটি জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, “আগের ইউএনও মাটি বিক্রি না করার শর্তে পুকুর খননের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জমি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ভেকু ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”