তপু সরকার হারুন, শেরপুর থেকে: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ধোপাকুড়া গ্রামে দুইটি
বাতি থাকা একটি বাড়িতে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল আসে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৪ টাকা। বিলটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে বিল সংশোধন করে ৯৯ টাকা করা হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহকের নাম আজিজুল হক। তিনি ওই গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে এবং পেশায় ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কাজের সুবাদে তিনি পরিবারসহ ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে এখন কেবল তাঁর দাদি একা থাকেন। বাড়িটিতে ঘরের ভেতরে একটি ও বারান্দায় একটি—মোট দুইটি বাতি রয়েছে। শীতকালে ফ্যানও ব্যবহার হয় না। এত কম ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই লাখ টাকার বিল দেখে পরিবার ও এলাকাবাসী বিস্মিত হয়ে পড়েন।
এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। মন্তব্যের ঘরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নানা সমালোচনা করতে থাকেন নেটিজেনরা।
আজিজুলের চাচা জালাল উদ্দীন বলেন, “মাত্র দুইডা বাতি জ্বলে, তাও অল্প সময়। আগে ১০০–১৫০ টেহার মতো বিল আসতো। হঠাৎ এত বিল কেমনে আসলো মাথায় ঢুকে না। রোববার সকালে দোকানে বিল দিতে গেলে দোকানদারই প্রথমে জিজ্ঞেস করে—এত বিল কেন?”
আজিজুলের চাচাতো ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, “ভাই তো ঢাকায় থাকে। এত টাকার বিল দেখে আমরা সবাই অবাক। ৭ ডিসেম্বর ছিল বিল জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট। সবাই বললো তারিখের মধ্যে বিল না দিলে নাকি পুরো দুই লাখই দিতে হবে। পরে রোববার বিকেলে অফিসে বলার পর তারা ৯৯ টাকার বিল বানাইয়া দিলো, টাকাও অইখানেই জমা নিছে। কিন্তু এমন ঘটনা তো প্রায়ই ঘটে।”
এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, “বিদ্যুৎ অফিসের মহিলারাই বিল তৈরি করেন। আমরা সমস্যা জানাতে গেলে ঠিকমতো কথা বলেন না। অনেক সময় ধমক দেন।”
ধোপাকুড়ার আরও কয়েকজন জানান, তাঁদের বিদ্যুৎ বিলও সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসছে। এতে পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি দেখেছি। আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। পাতা উলটে একজনের বিল অন্যজনের নামে চলে গিয়েছিলো। এটা ভুল হয়েছে। পরে ঠিক করা হয়েছে।”