শিরোনাম
◈ তেল-গ্যাসে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কতটা ◈ যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান, সামনে তিন শর্ত ◈ উত্তর ইসরায়েলে তীব্র হামলা: ইরান-হিজবুল্লাহর ১০০ রকেট নিক্ষেপের দাবি ◈ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় র‌্যাবের ওপর হামলা ◈ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে? নানা আলোচনা ◈ স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের বাজার ◈ সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ ◈ সহ আ‌য়োজক যুক্তরা‌স্ট্রে ইরান বিশ্বকাপ খেলবে না, জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী ◈ বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৭ বিকাল
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস: আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ঘুস দুর্নীতিতে জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তারা

স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা: কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে অধীনে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ঘুস দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ
করছেন শীতালক্ষ্যা ফাউন্ডেশন নামের একটি কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্মীরা। উপজেলা এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছেন এসব কর্মীরা। ওই কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্মীরা নামে মাত্র বেতন পেলেও সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি এবং হয়রানি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের অধীনে প্রায় ৩০জন শীতালক্ষ্যার আউটসোর্সিং কর্মী নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং জনহয়রানী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের শেল্টারে নিযুক্ত এসব কর্মী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা এবং উপজেলা কর্মকর্তাদের মানি কালেক্টর হিসেবে পরিচিত এসব কর্মীকে প্রকাশ্যেই শেল্টার দিচ্ছেন অসাধু কর্মকর্তা। এতে সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের অধীনে ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ি চালক মেহেদী হাসান ওই কার্যালয়ের ঘুসের হাট নিয়ন্ত্রণ করে এখন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা মালিক। তিনি বর্তমানে সংযুক্তীতে গত ২৮-১০-২০২৫ খ্রি. তারিখ থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে গত ২০১৯ সাল থেকে আজ অব্দি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ৫ টি প্রত্রিকায় এবং ভোক্তভোগি এক নারীর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৭৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিগত ৫ বছরে কমপক্ষে ১০কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। শেরপুর টু ঢাকা মেঘা এন্টার প্রাইজ নামক ৩টি চেয়ার কোচের মালিক হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ি চালক আশ্রাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। ওই নির্বাচন অফিসের দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। জেলা নির্বাচন অফিসের ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করার কারণে অনেক সমালোচনা এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও তাকে বহাল তবিয়তে রাখা হয়। গত ৮ বছর ঘুসের হাট নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন আদায় করে ইতোমধ্যে তিনি ৪ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, শেরপুর জেলা ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা আশ্রাফুলের বাবা ছিলেন দিনমজুর। চার ভাই বোনের সবাই বেকার। বাবার সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতো টানাটানির সংসার। ২০১৭ সালের ১৭ হাজার টাকা বেতনে আউটসোর্সিংএ চাকরী পান আশ্রাফুল। এরপর ৮ বছরে তিনি শেরপুরের নিজ এলাকায় ও শ্বশুর বাডী এলাকায় গড়েছেন ৪ কোটি টাকার সম্পদ। ক্রয় করেছেন স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ। এছাড়া নিজের চলাচলের জন্য তিনি ক্রয় করেছেন আনুমানিক ৩লক্ষ টাকা

মূল্যের সুজুকি জিকসার মোটর সাইকেল। শ্বশুর বাডীতে রয়েছে তার আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকার ক্রয়কৃত জমি। চলমান রয়েছে ৫তলা বিশিষ্ট বাড়ির কাজ। জানা যায় সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগদান করার পর জেলা নির্বাচন অফিসার জিল্লুর রহমান ও মোহাম্মদ সাদেক হোসাইনকে পেয়ে তার জিবনের ইউটার্ন শুরু হয়। তার রাজত্বে চলে জমজমাট এনআইডি সংশোধনের কাজ। তার দাপটে আতঙ্কে থাকে অফিসের অন্য স্টাফরাও।


প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই আশ্রাফুল (ড্রাইভার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থাকতেন আলিশান এয়ারকন্ডিশন বাসায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আশ্রাফুল পিকাপ গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ১৬ সালে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কবলে পড়লে জন সাধারণ মানুষের অর্থে হয় তার চিকিৎসা। এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করবে মুখ দিয়ে বের করার দেরি কিন্তু আশ্রাফুল বায়নাপত্র করতে দেরি হয়না।

সুত্র জানায়, শেরপুর ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামের পাশে তার ক্রয়কৃত জমির পাশে টং দোকানে বসলেই মানুষ উলটো জানতে আগ্রহী আশ্রাফুলের (টাকার) আলাদিনের চেরাগের উৎস কি? এ বিষয়ে ড্রাইভার আশ্রাফুলের ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মোঃ রাসেল, গাড়ীচালক, জেলা নির্বাচন অফিস লক্ষ্মীপুর। তিনি বর্তমানে সংযুক্তীতে গত ২৮-১০-২০২৫ খ্রি. তারখি হতে ফেনী জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত আছেন। লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে তার গাড়ী ক্রয় বিক্রয় এর কোটি টাকার বানিজ্য রয়েছে।

তাছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘ ৩বছর যাবত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন, অক্ষর সংশোধন, বয়স সংশোধনসহ নানা কাজে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নৈশপ্রহরী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুস দুর্নীতি এবং সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করছেন এইচএম আলম নামের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

জেলার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছেন মোঃ তুহিন মিয়া নামের নিরাপত্তা প্রহরী। তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিবাদ আমলে সে ছাত্রলীগ নেতাদেরকে দিয়ে দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত।

একই অভিযোগ চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ আলী আকবর এবং বরুড়া উপজেলার মোঃ জিহাের বিরুদ্ধে। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী মজিবুর রহমান, নাঙ্গলকোটের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, গাজী মোঃ তারেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জনহয়রানী বহু অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোঃ রকিবুল হাসান কাউসার দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার মাধ্যমে ওই অফিসে ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই অভিযোগ চাঁদপুর সদরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী মিতা রানী, মতলব উত্তরের জয় মিয়া, মতলব দক্ষিণের হোসেন খান, শাহরাস্তির মোঃ মাহবুব আলের বিরুদ্ধে।

তাছাড়া ঘুস দুর্নীতি, দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আব্দুল খালেক, নবীনগর উপজেলা নিরাপত্তা প্রহরী সাদ্দাম হোসেন, নোয়াখালী সদরের মহিন উদ্দিন, বেগমগঞ্জের মোঃ সাহাব উদ্দিন, সোনাইমুড়ীর মোঃ জাহেদ,সেনবাগের সিফাত উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জের সাইফুল ইসলাম, কবির হাটের মাইন উদ্দিন, হাতিয়ার মোঃ গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, ফেনী সদরের মাঈন উদ্দিন, সোনাগাজীর মোঃ নাজমুল হাসান, ছাগলনাইয়ার হোসনেয়ারা বেগম, পরশুরামের আরিফ আহম্মদ, লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের আবু তাহের সৈকত, রামগতির মোঃ বিপুল মিয়ার বিরুদ্ধে। শীতালক্ষ্যা ফাউন্ডেশনের এসব নিরাপত্তা প্রহরী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত থেকে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, তুহিন মিয়া নামের উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মী ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করে দেয়ার নামে আমার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে অবহিত করেও কোন লাভ হয়নি।

তবে অভিযুক্ত চালক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

শীতলক্ষ্যা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ আরেফিন বলেন, আমাদের ৪জন চালক এবং ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তারা সেবা প্রত্যাশীদের কে হয়রানি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব অভিযোগ তদন্ত করবে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। তারা যে ধরনের ব্যবস্থা নেবে সে অনুসারে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, আমরা এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী এবং চালকদের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। যেহেতু বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে অবশ্যই তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়