স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা: কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে অধীনে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ঘুস দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ
করছেন শীতালক্ষ্যা ফাউন্ডেশন নামের একটি কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্মীরা। উপজেলা এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছেন এসব কর্মীরা। ওই কোম্পানির আউটসোর্সিং কর্মীরা নামে মাত্র বেতন পেলেও সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি এবং হয়রানি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের অধীনে প্রায় ৩০জন শীতালক্ষ্যার আউটসোর্সিং কর্মী নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং জনহয়রানী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের শেল্টারে নিযুক্ত এসব কর্মী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা এবং উপজেলা কর্মকর্তাদের মানি কালেক্টর হিসেবে পরিচিত এসব কর্মীকে প্রকাশ্যেই শেল্টার দিচ্ছেন অসাধু কর্মকর্তা। এতে সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের অধীনে ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ি চালক মেহেদী হাসান ওই কার্যালয়ের ঘুসের হাট নিয়ন্ত্রণ করে এখন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা মালিক। তিনি বর্তমানে সংযুক্তীতে গত ২৮-১০-২০২৫ খ্রি. তারিখ থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে গত ২০১৯ সাল থেকে আজ অব্দি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ৫ টি প্রত্রিকায় এবং ভোক্তভোগি এক নারীর কাছ থেকে ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৭৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিগত ৫ বছরে কমপক্ষে ১০কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। শেরপুর টু ঢাকা মেঘা এন্টার প্রাইজ নামক ৩টি চেয়ার কোচের মালিক হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার গাড়ি চালক আশ্রাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। ওই নির্বাচন অফিসের দালাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। জেলা নির্বাচন অফিসের ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করার কারণে অনেক সমালোচনা এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও তাকে বহাল তবিয়তে রাখা হয়। গত ৮ বছর ঘুসের হাট নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন আদায় করে ইতোমধ্যে তিনি ৪ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, শেরপুর জেলা ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা আশ্রাফুলের বাবা ছিলেন দিনমজুর। চার ভাই বোনের সবাই বেকার। বাবার সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতো টানাটানির সংসার। ২০১৭ সালের ১৭ হাজার টাকা বেতনে আউটসোর্সিংএ চাকরী পান আশ্রাফুল। এরপর ৮ বছরে তিনি শেরপুরের নিজ এলাকায় ও শ্বশুর বাডী এলাকায় গড়েছেন ৪ কোটি টাকার সম্পদ। ক্রয় করেছেন স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ। এছাড়া নিজের চলাচলের জন্য তিনি ক্রয় করেছেন আনুমানিক ৩লক্ষ টাকা
মূল্যের সুজুকি জিকসার মোটর সাইকেল। শ্বশুর বাডীতে রয়েছে তার আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকার ক্রয়কৃত জমি। চলমান রয়েছে ৫তলা বিশিষ্ট বাড়ির কাজ। জানা যায় সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগদান করার পর জেলা নির্বাচন অফিসার জিল্লুর রহমান ও মোহাম্মদ সাদেক হোসাইনকে পেয়ে তার জিবনের ইউটার্ন শুরু হয়। তার রাজত্বে চলে জমজমাট এনআইডি সংশোধনের কাজ। তার দাপটে আতঙ্কে থাকে অফিসের অন্য স্টাফরাও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই আশ্রাফুল (ড্রাইভার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে থাকতেন আলিশান এয়ারকন্ডিশন বাসায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আশ্রাফুল পিকাপ গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ১৬ সালে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কবলে পড়লে জন সাধারণ মানুষের অর্থে হয় তার চিকিৎসা। এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করবে মুখ দিয়ে বের করার দেরি কিন্তু আশ্রাফুল বায়নাপত্র করতে দেরি হয়না।
সুত্র জানায়, শেরপুর ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামের পাশে তার ক্রয়কৃত জমির পাশে টং দোকানে বসলেই মানুষ উলটো জানতে আগ্রহী আশ্রাফুলের (টাকার) আলাদিনের চেরাগের উৎস কি? এ বিষয়ে ড্রাইভার আশ্রাফুলের ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মোঃ রাসেল, গাড়ীচালক, জেলা নির্বাচন অফিস লক্ষ্মীপুর। তিনি বর্তমানে সংযুক্তীতে গত ২৮-১০-২০২৫ খ্রি. তারখি হতে ফেনী জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত আছেন। লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে তার গাড়ী ক্রয় বিক্রয় এর কোটি টাকার বানিজ্য রয়েছে।
তাছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘ ৩বছর যাবত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন, অক্ষর সংশোধন, বয়স সংশোধনসহ নানা কাজে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নৈশপ্রহরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুস দুর্নীতি এবং সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করছেন এইচএম আলম নামের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
জেলার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুসের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছেন মোঃ তুহিন মিয়া নামের নিরাপত্তা প্রহরী। তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিবাদ আমলে সে ছাত্রলীগ নেতাদেরকে দিয়ে দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত।