শিরোনাম
◈ ৬০ হাজার কোটি টাকায় হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা নতুন রেলপথ ◈ সুনামগঞ্জে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য, ইউএনওকে দায়ী করার পর ঢাকায় নেওয়া হলো তাঁকে ◈ মক্কায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে যে ৬ প্রশ্নের জবাব চেয়ে সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের ◈ ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের আধিপত্য, ৮ মাসে রপ্তানি কমলেও শীর্ষস্থান অটুট ◈ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন স্পিকার? সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রস্তাব, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে আলোচনা হলো ◈ শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে এবার ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও তারেক রহমানকে লেখা রহস্যময় চিঠিও ◈ ব্যাটিং কোচের পদ থেকে আশরাফুলকে অব‌্যাহ‌তি দি‌লো বি‌সি‌বি ◈ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর ◈ ম‌্যান‌চেস্টার সিটির জয়রথ থামিয়ে দিলো ভিলা, জ্যাকসনের জোড়া আঘাত ◈ টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে, এবার শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ০১:১৪ দুপুর
আপডেট : ০৯ মে, ২০২৫, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্যাংকে টাকা না পেয়ে ক্ষোভে চেক ছিঁড়ে ফেললেন গ্রাহক

শাহাজাদা এমরান,কুমিল্লা : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের শাখায় টাকার সংকটে গ্রাহকের চেক ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে একটি চেকে ১০ হাজার টাকাও উত্তোলন করতে পারেননি গ্রাহকরা। এতে অনেক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান। গ্রাহকের চাপে এক সময় ব্যাংক ম্যানেজারও পালিয়ে যান। এ সময় সাহিদা নামে এক গ্রাহক প্রথমে একটি ৪০ হাজার এবং পরে একটি ১০ হাজার টাকার চেক দিয়েও টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভে কর্মকর্তাদের সামনে দুটি চেক ছিঁড়ে ফেলে দেন।

টাকা সংকটের বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে বলেছেন, আমরা সমস্যার উন্নয়নে কাজ করছি। ন্যাশনাল ব্যাংক চৌদ্দগ্রাম শাখার তথ্যমতে, ২০০২ সালে ব্যাংকটির এই শাখার যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকে লেনদেন ভালো হওয়ায় গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে এই শাখার গ্রাহক সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকটির লেনদেনে ভাটা পড়ে। চাহিদা মোতাবেক টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, তারল্য সংকটের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বুধবার রুবেল নামে এক গ্রাহক টাকা তুলতে এসে টাকা না পেয়ে বলেন, ‘ব্যাংকটির এই শাখায় আমার বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখে সাংসারিক খরচের জন্য ২৫ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য চেক জমা দিয়ে আজও আমি টাকা পাচ্ছি না। কবে নাগাদ টাকা উত্তোলন করতে পারব তাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলতে পারছে না। 

একই দিন সকালে আমেনা বেগম নামে এক গ্রাহক আসেন । তিনি ২০১২ সাল থেকে ব্যাংকের এই শাখায় লেনদেন করে আসছেন। ৩ দিন আগে ২০ হাজার টাকার চেক লিখে জমা দেন তিনি। তবে বুধবার পর্যন্ত টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁর স্বামী কষ্ট করে প্রবাস থেকে এই টাকা পাঠিয়েছেন সংসার খরচের জন্য। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংকের চৌদ্দগ্রাম শাখা তাঁকে কোনো টাকাই দিতে পারছে না। 

রুবেল, সাহেদা ও আমেনা খাতুনের মতো শত শত গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে ভিড় করে যাচ্ছেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেন-দরবার করে যাচ্ছেন। তারা কোনো টাকাই দিতে পারছেন না। 

গ্রাহকের অভিযোগ– অন্যান্য শাখার ন্যায় এ শাখাও খেলাপি ঋণের দায়ে জর্জরিত। এখন ব্যাংকে টাকা নেই। গ্রাহকের টাকা গেল কার পকেটে? চাপে পড়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. রায়হান তাঁর কক্ষ ছেড়ে ব্যাংকের ওপরের একটি ঘরে গোপনে বসে আছেন। কিন্তু গ্রাহকের কী হবে? 

বুধবার(৯ অক্টোবর) বিকেলে গ্রাহকরা চলে যাওয়ার পর ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. রায়হান সাংবাদিকদের জানান, সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে সারা বাংলাদেশে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব শাখায় নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। একযোগে সব গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য চেক জমা দেওয়ায় ব্যাংকের প্রধান শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। কারও টাকা না পাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

  • সর্বশেষ