শিরোনাম
◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪৮ সকাল
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর উদ্যোগ

গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত নৌপথটি একসময় উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘকাল ধরে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে এবং উত্তরের জেলাগুলোর যাতায়াত সহজ করতে এ রুটে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।

নাব্য সংকটের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রেলওয়ে ওয়াগন, ফেরি, রেললাইন ও জাহাজগুলো বিক্রি করেছে রেলওয়ের মেরিন বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধার বালাসী ও বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ফেরিঘাট টার্মিনাল নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। তবে নাব্য সংকটের কারণে এক মাসও ফেরি চালানো সম্ভব হয়নি এ রুটে। নদী খনন বা ড্রেজিংয়ের উচ্চ ব্যয় এবং বালু ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নৌপথ সচল রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র বলছে, প্রতি ঘনমিটার নদী খননে ব্যয় হয় ২১৫ টাকা। বালাসী থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার আর প্রস্থ কোথাও ১৫ কিলোমিটার। এ রুট সচল করতে ৩ মিটার গভীরতা ও ৬০০ মিটার প্রস্থ ধরে ২২ কিলোমিটার পথ খনন করতে ব্যয় হবে প্রায় ৮৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র চারবার খননে যে ব্যয় হবে, সেই একই পরিমাণ টাকা দিয়ে একটি যমুনা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

ড্রেজিংয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে ১০০ ফিট ড্রেজিং করে দেখা যায়, পরের দিন সকালে সেখানে চর পড়ে যায়। মানে সেখানে আর বোটই ঘোরানো যায় না; এমন সিচুয়েশন আমরা ফেস করেছি।’ তিনি মনে করেন, বাহাদুরাবাদ এবং বালাসী রুটে রেলসেতু করে দিলে সবচেয়ে বেটার হবে, কারণ সড়কপথ বর্তমানে খুব ব্যয়বহুল।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুর সম্ভাব্য দুটি রুট ধরে সেতু নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সেতু বিভাগ। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, বালাসী ও বাহাদুরাবাদ পয়েন্টেই যেন এ সেতু নির্মাণ করা হয়।

সেতুটি নির্মিত হলে গাইবান্ধা থেকে ঢাকার দূরত্ব কমবে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। এছাড়া কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার দূরত্ব ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে।

নৌকার মাঝি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বালাসী থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত সরকার যদি একটা সেতু করে দিত, তাহলে উত্তরবঙ্গের আটটা জেলার লোকের সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে ভালো হইতো।’

বালাসী ঘাটের কাউন্টার মাস্টার পাপুল সরকার বলেন, ‘এই বগুড়া দিয়ে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল দিয়ে ঘুরে যাওয়ার চেয়ে আমরা দুই ঘণ্টায় ময়মনসিংহ পৌঁছে যাব, ঢাকায় পৌঁছে যাব।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে যদি একটি সেতু হয়, তাহলে আমাদের বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের যে আটটি জেলা রয়েছে, এই আটটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের আরও উন্নততর হবে এবং নিশ্চয়ই উত্তরবঙ্গের এই মানুষগুলোর পণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটা একটা নতুন দ্বারের উন্মোচন হবে।’

বর্তমানে উত্তরবঙ্গের সকল যানবাহন যমুনা সেতুর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত চাপ ও যানজট তৈরি হচ্ছে। বিকল্প রুট হিসেবে এ সেতুটি নির্মিত হলে তা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়