শিরোনাম
◈ মিয়ানমারের ২৮৫ জন সেনা ফেরত যাবে, ফিরবে ১৫০ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৫৯.৭ শতাংশ  ◈ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী: ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রী ◈ দাম বেড়েছে আলু, ডিম, আদা ও রসুনের, কমেছে মুরগির  ◈ ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৮টি কূপ খনন শেষ করতে চায় পেট্রোবাংলা ◈ ভিত্তিহীন মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল ◈ বিনা কারণে কারাগার এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের স্থায়ী ঠিকানা: রিজভী ◈ অপরাধের কারণেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের  বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী  ◈ অ্যাননটেক্সকে জনতা ব্যাংকের সুদ মওকুফ সুবিধা বাতিলের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ◈ চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি, হিট এলার্ট জারি 

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৯:০৮ রাত
আপডেট : ০৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১১:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জমজমাট গুলিস্তান, হাহাকার বঙ্গ ও রাজধানী মার্কেটে

শিমুল চৌধুরী ধ্রুব: [২] ঈদের বাকি আর মাত্র ৭ থেকে ৮ দিন। এরই মধ্যে বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাত জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। অনেকে অবশ্য ইতোমধ্যে কেনাকাটার পর্ব শেষ করেছেন। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আগে পরিবার ও স্বজনদের জন্য কিনছেন পছন্দসই জামা কাপড়। মঙ্গলবার গুলিস্থান ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

[৩] গুলিস্থান, বাইতুল মোকাররম, পল্টন ও জিপিও মোড়ের ফুটপাত ও বিভিন্ন মার্কেটের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা কম। দেশে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতারা ঈদ বাজারে এসে একটু চিন্তা-ভাবনা করেই কেনাকাটা করছেন।

[৪] সরেজমিনে গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পোশাক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায় ফুটপাতে। এখানে প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, জুতা, বেল্ট, শিশুদের পোশাক, লুঙ্গি, মেয়েদের পোশাক, ট্রাউজার, পায়জামা, টি-শার্ট, ঘড়ি, শাড়ি, মানিব্যাগ, চশমা সবই মেলে। দামেও অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় সস্তা। 

[৫] ফুটপাতের এসব দোকানগুলোতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় প্যান্ট, ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শার্ট আর ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় মিলছে পাঞ্জাবি। তাছাড়া গেঞ্জি বা টি-শার্ট ৭০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় জুতা এবং নতুন কেডস পাওয়া যায় ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। তাই শুধু নিম্নআয়ের মানুষ নয় স্বল্প বাজেটে অনেকেই কেনাকাটা করেন এখানে। 

[৬] গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনে ৩০০ টাকা করে জিন্স প্যান্ট বিক্রি করছিলেন আসাদ। তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে থাকি। বেচাকেনাও ভালোই হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম।’

[৭] সায়েদাবাদ থেকে সন্তানের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন সিএনজি অটোরিকশাচালক হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, আমরা দুই মেয়ে, এক ছেলে। ছেলের বয়স পাঁচ বছর। মেয়ের জন্য মেয়ের মা কিনেছে। আমি ছেলের জন্য জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। সুবিধামতো পাইলে আমার নিজের জন্যও কিনবো। আমাদের বাজেট কম, এখানে একটু কমে পামু তাই আসছি।

[৮] গুলিস্তানের ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটা জমজমাট হলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের অন্যতম পোশাকের পাইকারি বাজার বঙ্গবাজারে। সরেজমিন ঘুরে এই বাজারের সেই চিরচেনা ভিড় দেখা যায়নি মোটেও। দোকানের পর দোকান বাহারি কাপড়ে সাজানো থাকলেও তেমন একটা বিক্রি হতে দেখা যায়নি। তাই এখানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে। ক্রেতা নেই বলে অনেক দোকানিকে ঘুমিয়ে থাকতেও দেখা গেছে। 

[৯] তারা বলছেন, দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতার সংখ্যা কম। মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন তারা সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের অনেকের দাবি, ক্রেতার অভাবে তারা কেনা দামেই পণ্য ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। 

[১০] নূর ফ্যাশন দোকানের মালিক মাসুদ রানা আমাদের নতুন সময়কে বলেন, ‘দেখুন, সকাল ৯টায় দোকান খুলেছি। ২টা পর্যন্ত দোকানে কোনো ক্রেতা আসে নাই। এখন পর্যন্ত (বিকেল ৪টা) দুইটা ড্রেস বিক্রি করেছি। পাইকারি বিক্রি প্রায় বন্ধই। সাধারণত ঈদের এমন সময়ে বেচা-বিক্রিতে ব্যস্ত থাকতাম।

[১১] বঙ্গবাজারের মতো এমন অবস্থা দেখা গেছে টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটেও। তবে এখানের দু একটি খুচরা দোকানে কিছুটা বেঁচা বিক্রি হলেও, ভেতরের দোকানগুলোতে তেমন ক্রেতা সমাগম নেই। তবে গুলিস্তান এলাকার ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, পীর ইয়ামেনী মার্কেট, খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্স, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, গ্যানিস সুপার মার্কেটে তুলনামূলক বেচাকেনা ভালো। এসব মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তা ফুটপাতের তুলনায় অপ্রতুল। সম্পাদনা: সমর চক্রবর্তী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়