প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরুল আলম পান্না: বাংলাদেশের আলো-বাতাসে বড় হয়ে উঠলেও মনে-প্রাণে পাকিস্তান বা ভারতের অস্তিত্ব!

মঞ্জুরুল আলম পান্না
মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে শুনে পাকিস্তানের প্রতি অস্বাভাবিক এক ঘেন্নাবোধ আমার সত্তার মনে জন্মেছে সেই শিশু বয়স থেকে। আর সেই ঘেন্নাবোধ থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া তার পাকিস্তানকে। দুই-তিন দিন ধরে বায়না করছে মাঠে গিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচ দেখার। ফাইনাল ম্যাচের টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়েও বাদ দিলাম। মাঠে গিয়ে এ দেশের মানুষরূপী কিছু জানোয়ারের পাকিস্তান প্রেম দেখে নিশ্চয়ই সে খুব কষ্ট পাবে। একের পর এক প্রশ্ন করবে? প্রশ্নগুলোর সম্ভাব্য কিছু উত্তর আমার জানা থাকলেও সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না নিশ্চয়। সত্তার শিশুমনের কোমল কিন্তু দুর্বোধ্য কষ্টগুলোকে আড়াল করতে বাদ দিলাম মাঠে গিয়ে খেলা দেখার ইচ্ছা। পাকিস্তানি ক্রিকেটার ফখর যখন বলেন, ‘সমর্থন দেখে মনে হচ্ছে ম্যাচ পকিস্তানেই হচ্ছে’ লজ্জায়-ঘেন্নায় তখন মাথা হেট হয়ে আসে আমাদের, কেঁপে ওঠে লাখো শহীদের আত্মা। পাকিস্তানের ওই সমর্থকরা জেনেভা ক্যাম্পের আটকেপড়া পাকিস্তানি বলে বিষয়টি হালকা করে দেখার চেষ্টা অনেকের, কেউ বলছেন খেলাকে এতো আবেগের জায়গায় নেওয়ার কী দরকার, কেউ বা বলছেন, মুখে পাকিস্তানের পতাকা এঁকে উল্লাস করার বিষয়টা কেবলই ফান বা মজা, কেউ আবার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও এদেশেরই অনেকে ভারতের সাপোর্ট করে। কই তখন তো সমস্যা হয় না।’ পাকিস্তানের জার্সি পরে পতাকা উড়িয়ে নগ্ন উল্লাস করা কথিত বাংলাদেশিদের ‘সান অব বিচ’ বলে গাল দিচ্ছেন অধিকাংশ মানুষ, কেউ বা বলছেন ‘রাজাকারের বাচ্চা।

কিন্তু এই সরাসরি বা অতি সরলীকরণ মন্তব্যে কি সব হিসাব, সব আবেগ শেষ? এগুলোকে কি শুধুই একটা খেলার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেবো? গত কয়েকদিন অনেক বেশি যন্ত্রণা, অনেক বেশি আশঙ্কা, অনেক জটিল হিসাব ভাবাচ্ছে আমাকে। পাকিস্তানকে সমর্থন জানাতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের কারও মুখ থেকে যখন বেরিয়ে আসে- ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান বলে কিছু নেই’, তখন আঁতকে উঠতে হয়, নিজের ভেতরেই নিজে কুঁকড়ে উঠেছি বারবার। বাংলাদেশের আলো-বাতাসে বড় হয়ে উঠলেও মনে-প্রাণে-রক্তের সঙ্গে পাকিস্তান বা ভারতের অস্তিত্ব মিশে থাকা জানোয়ারের সংখ্যা এদেশে কম নয়, এ কথা তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশই যেখানে প্রতিপক্ষ সেখানে প্রকাশ্যে মুহুর্মুহু পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে তার পক্ষে উল্লাস করার বিষয়টি তো আগে কখনো চোখে পড়েনি এভাবে। হঠাৎ করে তাদের এই দুঃসাহস কোত্থেকে এলো, এগুলোর পেছনে নিশ্চয় ‘সরল অঙ্কের’ মতো একই সঙ্গে গুণ-ভাগ-যোগ-বিয়োগের খেলা রয়েছে। এই গুণ-ভাগ-যোগ-বিয়োগের কোনো একটিতে সামান্য কিছু বাদ দিলেও সমাধান কিন্তু মিলবে না সহজে। লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

 

সর্বাধিক পঠিত