প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে টিয়ারসেল-লাঠিচার্জ, আহত ৮

ফজলুল হক: [২] সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৮ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

[৩] এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা এলাকার ইনক্রেডিবল ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক তৈরি কারখানায় বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে ওই কারখানার ৩য় ও ৪র্থ তলার সুইং সেকশনের শ্রমিকরা শান্তিুপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। শ্রমিকদের এ কর্মবিরতি কারণে ওই কারখানার ৮৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগদান করতে গিয়ে তারা কারখানার মূল ফটকে শ্রমিক ছাটাইয়ের নোটিশ দেখতে পান। সেখানে ৮৫ জনের নাম ও ছবিসহ টানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে শ্রমিকদের ধর্মঘটের ফলে কারখানার ওই দুই সেকশন মারাত্মক ভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। যার কারণে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) এর ধারা মোতাবেক ওই দুটি সেকশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এছাড়া কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ হলে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। কারখানার সামনে এমন নোটিশ দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে যায় এবং বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় বাহির থেকে আসা বহিরাগত ২০ থেকে ২৫ জন লোক এক শ্রমিককে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বেদরক মারধোর করে। এ কারণে শ্রমিকরা আরো উত্তেজিত হয়ে কারখানার সামনে ভাংচুর শুরু করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ টিয়ারসেল রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নারী পুলিশ তোহা আক্তারসহ তিন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বাকী আহতদের নাম জানা যায়নি।

[৪] নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত কয়েকদিন আগে কোন কারন ছাড়াই কারখানার একজন ইনচার্জ কে কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত করেছে। কেন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বিষয়টি জানতে শ্রমিকরা আন্দোলন করে। আর এ আন্দোলনের কারণেই ৮৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাই করা শ্রমিকদের ফিরিয়ে নেয়া না হলে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

[৫] ওই কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ইফতেখার মাহাবুব সানি জানান, যারা চাকরি না করবে তাদের পাওনাদি পরিরোশ করা হবে। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

[৬] গাজীপুর-২ শিল্প পুলিশের কালিয়াকৈর জোনের ইনচার্জ (ওসি) ফরহাদ আব্বাস বলেন, ওই কারখানার ২টি সেকশন বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে শ্রমিকেরা ইটপাটকেল ছুড়ে তিন পুলিশ সদস্যকে আহত করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৯ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত