শিরোনাম
◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়? ◈ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস, ওঠা যাবে যেসব স্টেশন থেকে ◈ ওয়ান‌ডে সি‌রি‌জে অ‌স্ট্রেলিয়ার কা‌ছে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল  ◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৪৫ দুপুর
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৪৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বে বিপ্লব ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জন্ম লগ্নের পরীক্ষা পদ্ধতি চলছেই

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে শিক্ষক বোর্ডে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। সংস্কৃত বিভাগ থেকে মাস্টার্স করে সংস্কৃত লিখতে বা বলতে পারে না। এইটা এখন সংবাদ। কিন্তু এইটা কি কেবল ওই বিভাগেরই সমস্যা? পদার্থবিজ্ঞান থেকে পাশ করে কতজন পদার্থবিজ্ঞান বুঝে? গণিত বিভাগ থেকে পাশ করে কতজন গণিত বুঝে? উর্ধু ও পালি বিভাগ থেকে পাশ করে কতজন উর্ধু ও পালি বলতে ও লিখতে পারে? ইংরেজি বিভাগ থেকে পাশ করে কতজন সহিভাবে ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারে? আরবি বিভাগ থেকে পাশ করে কতজন আরবি সহি ভাবে বলতে ও লিখতে পারে?

সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. মাধবী রানী চন্দ ঠিকই বলেছেন "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যে দিনদিন খারাপ হচ্ছে তা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই। অনেকেই মুখস্ত করে পাশ করে ফেলে।" মান যে খারাপ হচ্ছে এইটা কি নতুন কোন কথা? অনেক দিন ধরেই আমরা টের পাচ্ছি মান খারাপ হচ্ছে। সমস্যা হলো মান ভালো করার কোন পদক্ষেপ চোখে পরে না।
সেই ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম লগ্নে যেই পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি মোটা দাগে সেই পদ্ধতি আজও বলবৎ আছে অথচ বিশ্বে এই সকল বিষয়ে বিপ্লব ঘটে গেছে। প্রশ্ন পত্রের মানই নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীর মান। মুখস্ত করে যে কেউ ভালো রেজাল্ট না করতে পারে সেই রকম প্রশ্নপত্র নির্ধারণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা জরুরি। ১০০ বছরেও আমরা এই কাজটি করতে পারলাম না। দ্বিতীয় পরীক্ষক পদ্ধতি যতদিন থাকবে ততদিন প্রশ্নপত্রের মানের উন্নয়ন কখনো সম্ভব না। তাছাড়া উন্নত মানের প্রশ্নের জন্য প্রয়োজন উন্নত মানের শিক্ষক নিয়োগ। আমরা শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রমোশন পদ্ধতিতেও ১০০ বছরেও তেমন কোন পরিবর্তন আনতে পারিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন পদ্ধতি এক স্তরে করা হয়। অর্থাৎ একটি মাত্র নিয়োগবোর্ডের মাধ্যমে এটি হয় এবং সকল বিভাগের সকল নিয়োগ বোর্ডের প্রধান থাকে হয় ভিসি কিংবা প্রোভিসি। এর মাধ্যমেই রাজনীতিকরণ ইনজেক্টেড হয়। শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বহু স্তরে যাচাইয়ের মাধ্যমে করা উচিত। তাতে ভুলের সম্ভবনা কমে যাবে এবং একই সাথে রাজনীতিকরণও কিছুটা কমবে।

প্রথমত পিএইচডি ব্যতীত কাউকে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া উচিত না। পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতাকে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা উচিত অথচ এখানে পোস্ট-ডককে কোন হিসাবেই ধরা হয় না। কেবল যদি একটি নিয়ম করা হয় যে ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং-এ ৪০০-র মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী থাকলে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে এবং পিএইচডি + ৩টি পোস্ট ডক অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে সরাসরি সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলেই মান সম্পন্ন অনেক শিক্ষক পাব। এই ক্ষেত্রেও সবাই যে সমপরিমাণ ভালো হবে এমন গ্যারান্টি নাই। তবে স্টাটিস্টিক্যাললি অধিকাংশই ভালো পাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় লাভ যেটি হবে সেটি হলো নিয়োগ পদ্ধতি থেকে রাজনীতি বিদায় হবে। এইটুকুই করে দেখেন। দেখবেন শিক্ষার মান এক ধাপে অনেক উন্নত হয়ে গেছে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় সমস্যা হলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যেমন পরীক্ষা পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন নীতিমালা কখনো যুগোপযুগী করার চেষ্টা করা হয় না। যাহা কিছু বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নত না হবে তাহাদের মান কমতে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

  • সর্বশেষ