প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাব্বির আহমেদ: লিটন, মুশফিক ও রিয়াদদের এতো দোষ দিয়ে কী লাভ?

সাব্বির আহমেদ
ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই পাকিস্তানের হার। এবার ব্যতিক্রম হলো। ভারত হেরেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো। তাও টি২০ ফরম্যাটে, ১০ উইকেটে! শাহীন শাহ আফ্রিদির শিল্পের মতো বোলিং, বাবর-রিজওয়ানের আনপাকিস্তানি coolness, সবই ছিলো অন্য রকম। ক্রিকেট রাজকীয় নান্দনিকতার খেলা। কমিটমেন্টেরও। প্রতিটা বলে, প্রতিটা স্ট্রোকে, ক্যাচে-ফিল্ডিংয়ে প্লেয়াররা নিজেকে উজাড় করেন। সামর্থ্য ঢেলে চেষ্টা করেন। কতো মানুষ খেলা দেখছেন। তাদের মুগ্ধ করতে হবে। আমরা দর্শকরা কিছুই করি না। আরাম করে খেলা দেখি। আর জিততে চাই। আমার দল জিতুক। প্রতিপক্ষকে পিষে ফেলুক। ভেঙে-গলে- থেঁতলে, চুরমার করে দিক। কী আনন্দ! আমার মস্তিষ্কের পুরস্কার কেন্দ্র একগাদা ডোপামিন নিঃসরণ করবে, আমি ইউফোরিক হিলিয়ামের বাবল হয়ে উড়ে বেড়াবো। কী আনন্দ! ‘অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া’ কী আনন্দ। হারজিতের স্নায়ুবিক স্থূলতার কারাগারের কী অসহায় বন্দী এই বায়োলজিক্যাল আমি।

[২] ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে, জিতে গেছে মনে করার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের testosterone একলাফে ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। অপরকে হারিয়ে দেওয়া, কী মাতাল পৌরুষ আনন্দ। আর হেরে গেলে testosterone কমে যায় সাড়ে সাত শতাংশ। আমি ক্ষুব্ধ হই। ভেতরের ভাঙচুরের সাধ উন্মত্ত হয়ে ওঠে। আক্রমণ করতে হবে। টার্গেট খুঁজতে থাকি। ভারতের সমর্থক আমি, হেরে গেছি, মোহাম্মদ শামীকে থেঁতলে দিতে হবে। সামনে পাচ্ছি না? তাতে কী? ফেসবুক আছে। ইনস্টাগ্রাম আছে। শামীকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দিতে হবে, বিশ্বাসঘাতক বলতে হবে, দেশদ্রোহী বলতে হবে। আরও কতো কী। আমি ভুলে যাই, ওডিআইতে শামী আমাকে কতোবার জিতিয়েছে। কতোবার প্রতিপক্ষকে চুরমার করে আমার ভেতরে ডোপামিনের প্লাবন বইয়ে দিয়েছে। লিটন দাস। ২০১৮ সালের দুবাই এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কী রাজসিক ইনিংসটা খেলেছেন। বাংলাদেশের করা ২২২ রানের মধ্যে লিটন দাস একাই করেছেন ১২১। যে ব্যাটিং বধ্যভূমিতে ভারত বাংলাদেশের কেউ ৫০ ছুঁতে পারেনি সেখানে লিটন দাস স্ট্রাইক রেইট রেখেছেন ১০৩। লিটন দাসের ব্যাটে অনুপম আগ্রাসন আছে। শিল্পের মতো। বাংলাদেশের খুব কম ব্যাটসম্যানের তা আছে। মাত্র ২৭ বছরের তরুণ। আমরা যদি ঠিকঠাক হঁৎঃঁৎব করতে পারি, অনেক বড় মাপের ব্যাটসম্যান হওয়ার সব সম্ভাবনা তার আছে। এক খেলায় হেরেছি, দুটো ক্যাচ মিস হয়েছে, লিটনকে ধ্বংস করে দিতে হবে? ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম দেখলে তাই মনে হয়।

[৩] টি২০ বিশ্বকাপ ধুন্ধুমার ক্রিকেটের খেলা, আমাদের অনেক ভালো ব্যাটিং প্রস্তুতি লাগবে, নিশ্চয়ই জানা ছিলো। আমরা সে পথে কতোটা হেঁটেছি? ব্যাটিং পিচে জিততে দুর্দান্ত ফিল্ডিং লাগে। আমাদের ফিল্ডিং স্কিল কতোটা শানিয়েছি? বিশ্বকাপের আগে মিরপুরের বোলিং পিচে খণ্ডিত শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অপার্থিব আনন্দে ভেসে গিয়েছিলাম। ব্যাটিং প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপে আসা স্কটল্যান্ড, শ্রীলংকা এখন আমাদের হারিয়ে সে আনন্দটাই তো নিচ্ছে। শোধবোধ হয়ে যাচ্ছে না? এতো খেপছি কেন? লিটন, মুশফিক, রিয়াদদের এতো দোষ দিয়ে কী লাভ?

[৪] ক্রিকেটে কোনোদিন কোহলি-রাহুল-রিয়াদরা জিতে, কোনোদিন আসালাঙ্কা, বাবর, শাহীনরা। সাকিব-শামী- লিটনদের দিনে তারাও মহারাজা হয়। ক্রিকেট এমনই। একপক্ষ জিতে। দু’পক্ষ জেতার সুযোগ ক্রিকেটে নেই। তবে দু’পক্ষই সর্বস্ব উজাড় করে খেলে। লিটন, শামীরাও তাই করেছে। তাই করে। কখনো হারে, কখনো জিতে। তাতে এমন কী? কেন ভুলে যাই, লিটন, শামীরা আমাদের মতোই মানুষ। তাদের অনুভূতি আছে। তারাও কষ্ট পায়। Shabbir Ahmed-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত