প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: সংসার চালাতে হিমশিম খাছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা

মহসীন কবির: [২] বাজারে চালসহ বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। লাগামছাড়া দামে শহুরে দারিদ্র্য মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীসহ সীমিত আয়ের মানুষ।

[৩] গত সোমবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বৈঠকে দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বাজারে এর কোন প্রভাব এখনো পড়েনি।

[৪] রাজধানীর মিরপুরে শাহ-আলীবাগে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন মজিবুর। মাসে সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা বেতন পান। তার মধ্যে ছয় হাজার টাকা ঘর ভাড়া আর চার হাজার টাকায় সংসার চালান তিনি। এর মধ্যে তিন হাজার টাকা চাল ডালসহ মাসের বাজার খরচ আর এক হাজার টাকা ছেলের লেখাপড়ার খরচ। কিন্তু এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এত বেশি যে, আর এ টাকায় সংসার চালানোই যেন দায় তার। মজিবুর বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছরে এক টাকাও বেতন বাড়েনি তার। তারপরও কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। যায় য়ায় দিনি

[৫]  ১৪৮ টাকার সয়াবিন তেল ১০ দিনের ব্যবধানে বেড়ে ১৫৮ টাকা। মোটা মসুরের ডাল ৭০ টাকা থেকে হয়েছে ৯০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। এছাড়া আটা, ময়দা ও আদা-রসুনসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

[৬]  টিসিবির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক বছরের কিছু বেশি সময়ের চেয়ে মোটা চালের দাম ৩১ শতাংশ বেড়েছে। খোলা আটার দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। মসুরের দাম ৩০ শতাংশ, চিনির দাম ১৯ শতাংশ। অন্য দিকে তেলের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। গত বছর ৫ লিটারের একটি সয়াবিন তেলের বোতল কেনা যেত ৫০০ টাকায়, এখন সেটা বেড়ে সাড়ে সাতশ’ টাকা হয়ে গেছে। সবজি ও মাছ-গোশতের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম হয়েছে ১৮০ টাকায়।

[৭] শীতের আগাম সবজি শিম গত সপ্তাহের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের হয়নি। এছাড়া চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢঁ্যাড়স, পটোল, করলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢঁ্যাড়স ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাক, কলমিশাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। সবজির দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী মো. জুয়েল বলেন, ‘বাজারে সবজির অভাব নেই। কিন্তু আড়তে সব সবজির দাম চড়া। বেশি দামে সবজি কেনার কারণে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে দিন যত যাচ্ছে শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপির সরবরাহ বাড়ছে। তাই আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যে সবজির দাম কমে আসবে।’

[৮] শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়িতে বিশ্বখাদ্য দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাদ্যের জন্য দেশে এখন আর হাহাকার নেই, খাদ্য সংকট নেই, তবে খাবারের দাম একটু বেশি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের দামের বিষয়টা আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য স্থানীয় বাজারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। চালের দাম একটু বেশি হলেও, চাল নিয়ে দেশে অস্থিরতা নেই।

[৯] বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, করোনাকালে যারা বেকার হয়েছেন তাদের অনেকে এখনো কর্মে ফিরতে পারেননি। ফিরলেও আগের অবস্থানে নেই। রেমিট্যান্স প্রবাহও কমছে। এমন অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্থির আয় মানুষ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কর্মসংস্থানে যারা রয়েছেন, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। দৈনিক আমাদের সময়

[১০] ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনশাস কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, গ্যাসের সংকট নেই। তা হলে কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে। গ্যাসে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা উচিত।

সর্বাধিক পঠিত